মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর উপদেষ্টাদের বলেছেন যে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোয়ের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ইচ্ছা রাখেন — শুধু কোনভাবেই যুদ্ধ বা সামরিক পদক্ষেপই তার একমাত্র উত্তরনয়ন নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনায় একটি নতুন পথ তৈরি করতে চান। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব, খুব শীঘ্রই; আমার তাঁর জন্য বলার কিছু ‘খাস’ আছে”।

25 Nov 2025 | Pic: Collected
আফিমিলিয়া (Axois) সংবাদমাধ্যমকে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, এই আলোচনার পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি — তারিখ ঠিক করা হয়নি এবং আলোচ্য বিষয়ও স্পষ্টভাবে চূড়ান্ত হয়নি। অন্যদিকে, মাদুরো নিজেও প্রতি প্রতিক্রিয়ায় বলছেন যে তিনি মুখোমুখি (“face-to-face”) আলোচনায় পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি তাঁর সরকারি টেলিভিশন প্রোগ্রামে বলেন, “যারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কথা বলতে চান, তারা আমদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলতেই পারে, কোনো সমস্যা নেই।”
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে — বিশেষ করে নিরাপত্তার নামে এবং মাদুরোর শাসনকে লক্ষ্য করে। ট্রাম্প গুপ্তভাবে সামরিক অপশনও বাজি রাখছেন — তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি ভেনেজুয়েলায় মিত্র ভূমিকা নিচ্ছেন, এবং “কোনো বিকল্পই বাতিল নয়”।
উল্লেখ্য, মাদুরো ইতিমধ্যেই সেপ্টেম্বর ২০২৫–এ ট্রাম্পকে একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগগুলো — বিশেষ করে মাদক চক্র ও মাদকপথ‑সংক্রান্ত বিরূপ মন্তব্য — প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং “সরাসরি ও খোলামেলাভাবে” দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদরিগেজ একটি টেলিগ্রাম বার্তায় জানান যে চিঠি ট্রাম্পের বিশেষ দূত রিচার্ড গ্রেনেল‑এর কাছে গিয়েছিল, এবং মাদুরো স্পষ্ট করেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক পথেই গড়তে চান।
তবে এই সম্ভাব্য ডায়ালগকে শুধু শান্তির এক সংকেত হিসেবেই দেখার থেকে বিশ্লেষকরা অনেক বেশি গভীরে দৃষ্টিবিনিময় করছেন। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবিয়ান এলাকায় নৌজাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে — যা মাদুরোর বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী চাপে পরিণত হয়েছে। Cএকই সময়, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে এবং তার শাসনকে কড়া ভাষায় মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘কথোপকথনের ইঙ্গিত’ এবং মাদুরোর ‘মুখোমুখি আলোচনায় প্রস্তুতি’ একে অপরের পরিপূরক হতে পারে — সামরিক বিকল্প বন্ধ না করলেও, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন ধাপে গড়াতে পারে। এই পরিবর্তন কূটনৈতিক কৌশলের একটি পালাবদলও বোঝায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র শুধু হুমকিতে নয়, কথাবার্তার মাধ্যমেও মাদুরোর ওপর প্রভাব বাড়াতে চাইছে।
অন্য দিকে, বিষয়টিতে ঝুঁকিও আছে। সরাসরি আলোচনায় গেলে কি মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে কোনো গুরুত্ব সহকারে রাজনীতি পরিবর্তন করবে? নাকি এটি কেবল সময় কিনে নেওয়ার কূটনৈতিক কৌশল? প্রশ্নগুলো গভীর — এবং ট্রাম্প-মাদুরো সংলাপ বাস্তব রূপ নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এক কথা স্পষ্ট: এখন যুদ্ধ-চাপের মধ্যেও কথোপকথন ও কূটনীতি এক নতুন দৃষ্টির অংশ হয়ে উঠেছে — যা কেবল নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দেয়।




