যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা (DV1) প্রোগ্রাম সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এমন ঘোষণা এসেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম-এর পক্ষ থেকে, যা ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার পর কার্যকর করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ, বিস্তারিত প্রেক্ষাপট, সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।

20 Dec 2025 | Pic: Collected
গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা (DV1) কি?
গ্রিন কার্ড লটারি বা ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামটি একটি ইমিগ্রেশন উদ্যোগ, যার আওতায় প্রতিবছর সবচেয়ে ৫০,০০০ স্থায়ী বাসিন্দা ভিসা (গ্রিন কার্ড) বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয় এবং এটি মূলত সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন মাধ্যম রয়েছে। সাধারণভাবে এতে ঈজা-শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিরাপত্তা যাচাই, সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য নিয়ম শর্ত পূরণ করার পরই ভিসা পাওয়া যায়।
কেন স্থগিত করা হলো?
ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার পরে, যেখানে প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি ২০১৭ সালে ডাইভারসিটি ভিসা লটারি প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম X (সাবেক টুইটার)-এ পোস্টে বলেছেন, “এই ভয়াবহ কর্মসূচির কারণে আর কোনো আমেরিকান ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়ার জন্য” লটারি স্থগিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও নয়জন আহত হয় এবং এমআইটির একজন অধ্যাপককে হত্যারও অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজনসহ এই দুটি ঘটনা তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তিনি ২০১৭ সালে বৈধভাবে ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
এটি কীভাবে কাজ করে এবং কেন স্থগিত?
ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রাম মূলত সংযুক্ত রাষ্ট্র কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি কর্মসূচি, যা বৈধভাবে গ্রিন কার্ডের সুযোগ খোঁজার একটি উপায়। ট্রাম্পের আদেশে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)-কে এটি স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী এটি ভীত নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেয়া হয়েছে।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাইভারসিটি ভিসা লটারির বিরোধিতা করে আসছেন এবং আগেও ২০১৭ সালে একাধিক ঘটনায় এই প্রোগ্রাম নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন; তখনো তিনি এটি বন্ধ বা সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, যা পরে আদালতে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
স্থিতি ও স্থগিতের ভবিষ্যৎ
বর্তমানে প্রশাসন কার্যত: ডাইভারসিটি ভিসা-এর নতুন আবেদন প্রক্রিয়া ও কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করে দিয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি চিরস্থায়ীভাবে বাতিল করা বা কবে পুনরায় চালু হবে — সেই বিষয়ে কোনো পরিষ্কার সময়সীমা বা সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, যেহেতু এটি কংগ্রেসের দ্বারা অনুমোদিত আইনগত প্রোগ্রাম, তাই কোনো স্থায়ী বন্ধকরণ বা পরিবর্তন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে এবং আদালতে তা লড়াই হতে পারে।
এ সিদ্ধান্তের প্রভাব এবং উদ্বেগ
গ্রিন কার্ড লটারির স্থগিতের ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ আবেদনকারী — বিশেষত যারা এই প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচন হয়ে গ্রিন কার্ড পেতে অপেক্ষা করছেন — তাদের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ঠিকঠাক হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ২ কোটির মতো মানুষ আবেদন করেছিলেন এবং ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি আবেদনকারী ইতোমধ্যেই নির্বাচিত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।
কিছু দেশ বিশেষত নেপাল, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবছর এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পায়, এবং স্থগিতের কারণে তাদের কাছে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
আইনি বিশ্লেষকরা মনে করেন যে এই স্থগিতাদেশ আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলে, কারণ ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রাম কংগ্রেসের অনুমোদিত এবং তা আইনগত ভিত্তিতে পরিচালিত হয় — তাই প্রশাসনের একতরফা স্থগিত সিদ্ধান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার বাইরে যেতে পারে এবং চ্যালেঞ্জ হতে পারে।




