মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং বলেছেন, তাদের শাসন হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে। সম্প্রতি তিনি সিনেটরদের সঙ্গে একটি ব্রেকফাস্ট বৈঠকে এই বক্তব্য রাখেন। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা বলছি, যদি আমরা তা করি, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা আর কখনো ক্ষমতায় আসতে পারবে না, কারণ আমি দেশের জন্য অনেক ভালো আইন পাস করব।’ ট্রাম্পের এ মন্তব্য তার রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিকল্পনা বোঝাতে পারে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
6 Nov 2025 | Pic: Collected
ব্রেকফাস্ট বৈঠকে ট্রাম্প সিনেটরদের সঙ্গে তার আলোচনা মূলত মেয়র নির্বাচন, রিপাবলিকানদের পরিস্থিতি এবং সরকারি অচলাবস্থা কেন্দ্রিক ছিল। তিনি মেয়র নির্বাচনের ফলাফলকে ‘আকর্ষণীয় সন্ধ্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘গত রাতে আমরা, জানেন তো, জয়ের আশা করিনি। নির্বাচনটি ছিল খুব গণতান্ত্রিক, তবে তা রিপাবলিকানদের জন্য ভালো ছিল না। কিন্তু আমরা একটি আকর্ষণীয় সন্ধ্যা কাটিয়েছি এবং অনেক কিছু শিখেছি।’ এর মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে যে, তিনি নির্বাচনের ফলাফল এবং ভোটার মনোভাব পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তার দলকে পরবর্তী কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, জরিপ পরিচালকদের মতে, সরকারি অচলাবস্থা রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় নেতিবাচক বিষয় ছিল। তিনি নিজেও ব্যালটে না থাকার কারণে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছেন। মার্কিন সরকার বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে, যা ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে। এর কারণ হলো কংগ্রেস এখনো নতুন অর্থায়ন চুক্তিতে সম্মত হতে পারেনি। এর ফলে সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন ফেডারেল প্রোগ্রাম কার্যক্রমে ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে, এবং অর্থনৈতিক চাপও বেড়েছে।
সিনেটরদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে তিনি ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসার ভয়কে তার রাজনৈতিক অজেন্টারির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি এও বলেছেন যে, তার শাসনামলে পাস হওয়া আইনগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে এবং তা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন সরকারি কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা নীতি এবং কর সংস্কার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার নির্বাচনী ভিত্তি শক্ত করার উদ্দেশ্যে। তিনি রিপাবলিকান দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করতে এই ধরনের ভাষণ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে, ট্রাম্প বারবার ডেমোক্র্যাটদের নিন্দা ও সতর্কবার্তা প্রদান করছেন। এটি রাজনৈতিক প্রচারণার একটি সাধারণ কৌশল, যা ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে সহায়ক।
ট্রাম্পের বক্তব্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মেয়র নির্বাচনের ফলাফলের প্রতিফলন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল রিপাবলিকানদের জন্য আশঙ্কাজনক হলেও, এটি একটি শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। তিনি সিনেটরদেরকে সতর্ক করেছেন যে, দলের উচিত নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণ করা। এর পাশাপাশি ট্রাম্প তার দলকে সতর্ক করেছেন যে, সরকারি অচলাবস্থা এবং ব্যক্তিগত ব্যালটের অভাব ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে।
মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের এমন সতর্কবার্তা ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাব্য প্রভাব, সরকারি অচলাবস্থা, নির্বাচনী ফলাফল ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য রিপাবলিকান দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পাশাপাশি ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্য বহন করছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতায় আসা এবং সরকারি অচলাবস্থা সংক্রান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন, মেয়র নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন, এবং রিপাবলিকান দলের সিনেটরদের সঙ্গে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি নির্বাচনী ভিত্তি শক্ত করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের সতর্ক করার কৌশল অবলম্বন করছেন এবং আগামী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে দলের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছেন।



