দক্ষিণ কোরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া রাজ্যে হুন্দাইয়ের ব্যাটারি কারখানায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ৪৭৫ জন কর্মী আটক হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এই ঘটনার পর, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং বলেছেন, “অ্যামেরিকা যদি দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ না করে, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে পুনরায় ভাবতে হবে।”

14 September 2025 | Pic: Collected
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) জর্জিয়া রাজ্যের এলাবেল শহরে হুন্দাই-এলজি ব্যাটারি কারখানায় একটি অভিযান চালায়। এই অভিযানে ৪৭৫ জন কর্মীকে আটক করা হয়, যাদের মধ্যে ৩১৬ জন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে অনেককে হাত, পা ও কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়, যা দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এই ঘটনার পর, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং বলেন, “এই ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং হতাশাজনক।” তিনি আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ না করে, তবে আমাদের কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে পুনরায় ভাবতে হবে।”
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো ইউন ওয়াশিংটন সফর করে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের আলোচনা ফলস্বরূপ, দুই দেশের স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে সম্মত হয়েছে, যা দক্ষ কর্মীদের জন্য একটি নতুন ভিসা ক্যাটাগরি তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে।
এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এই ঘটনার পর, ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তাদের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিমানবন্দরে ফিরে আসা কর্মীদের স্বাগত জানাতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। একজন কর্মীর স্ত্রী গণমাধ্যমে বলেন, “তারা সেখানে গিয়েছিলেন অ্যামেরিকাকে সাহায্য করতে। অথচ তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করা হলো, যা খুবই অপমানজনক।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। যদি যুক্তরাষ্ট্র দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ না করে, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।




