ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শহর নিউ ইয়র্কের মেয়র, জোরান মামদানি, যিনি শুধু মুসলিমই নন, একই সঙ্গে প্রথম দক্ষিণ এশীয়, প্রথম আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এবং এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে নিউ ইয়র্কের সবচেয়ে তরুণ মেয়র। এবার মামদানির সামনে আরেকটি ইতিহাস গড়ার সুযোগ এসেছে। তিনি যদি দায়িত্ব গ্রহণের দিন নিজের চুল-দাড়ি কাটার বড় কোনো সিদ্ধান্ত না নেন, তবে জোরান মামদানি হবেন ১৯১৩ সালে মারা যাওয়া উইলিয়াম জে গেনরের পর নিউ ইয়র্কের প্রথম দাড়িওয়ালা মেয়র। গেনরের দাড়ি ছিল ধূসর-সাদা, ছাঁটা এবং তিনি তখন প্রায় ৬০ বছর বয়সী।

12 Nov 2025 | Pic: Collected
গেনরের দাড়ি এবং সিল্ক টুপি তাকে এক পরিণত রাজনীতিক ও সমাজের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরত। ১৯৫১ সালের এক জীবনীতে বলা হয়েছে, গেনরের ‘ভ্যানডাইক’ দাড়ি তার সময়ের সমাজে মর্যাদার প্রতীক ছিল। অন্যদিকে মামদানি এখন মাত্র ৩৪ বছর বয়সী, মিলেনিয়াল প্রজন্মের প্রতিনিধি। তার দাড়ি দেখতে জে গেনরের মতো হলেও বয়স, প্রজন্ম এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভ্যান্স বা ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের দাড়ির মতো নয়; মামদানি একজন বাদামি চামড়ার মুসলিম হিসেবে এটি নতুন অর্থ বহন করে।
এ ছাড়া তিনি বুঝতে পারেন কিভাবে দাড়ি তার ব্যক্তিত্ব, ভাবমূর্তি ও জনমত গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। মামদানি প্রায় সবসময়ই দাড়ি রেখেছেন; শুধুমাত্র ২০২২ সালে নিউ ইয়র্ক স্টেটে কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে প্রথম মেয়াদে কিছুদিনের জন্য শুধু গোঁফ রেখেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আবার পূর্ণ দাড়ি রেখেছেন। ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয়, প্রথম আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এবং তরুণতম মেয়র হিসেবে তার দাড়ি থাকা নাকি ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হবে, তা দেখার জন্য নিউ ইয়র্ক ও বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার এই দাড়ি শুধু শৈলী নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করে। এটি প্রতীকীভাবে তার অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাস, ভিন্নতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং আধুনিক রাজনীতিতে নতুন নীতি প্রদর্শনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিউ ইয়র্কবাসী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা ইতিমধ্যেই gespannt আছেন, নতুন মেয়র কিভাবে এই প্রতীকী দাড়ি রেখে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পথে চলবেন। জোরান মামদানি কেবল দাড়ি রেখে নয়, বরং নেতৃত্বের দিক দিয়েও ইতিহাসে আরেকবার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে যাচ্ছেন।




