নিউইয়র্ক সিটির মেয়র প্রার্থী জোহারান মামদানি সম্প্রতি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন, যা নির্বাচনী প্রচারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নজরকাড়া পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শহরের নিরাপত্তা, কমিউনিটি সম্পর্ক এবং পুলিশ সংস্কার নীতিমালার ওপর সরাসরি মনোযোগ দিতে চাইছেন।
মামদানি, যিনি নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য, প্রগতিশীল নীতির একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় পুলিশ সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তবে একই সঙ্গে পুলিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তার গুরুত্বকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি দৃঢ়ভাবে মনে করেন যে পুলিশিং ও কমিউনিটির মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যাবশ্যক।

30 August 2025 | Pic: Collected
সাম্প্রতিক বৈঠকে মামদানি শহরের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা চাই শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হোক, কিন্তু একই সঙ্গে কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, পুলিশ বাজেট নিয়ে সংস্কার আনা দরকার, তবে তা হবে সম্পূর্ণ সমর্থন ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে মামদানি সামাজিক ন্যায়, সমতা ও অর্থনৈতিক প্রগতির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার মূল লক্ষ্য হলো শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, অপরাধ হ্রাস, ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন। তিনি মনে করেন, পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুললে শহরের সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেয়র নির্বাচনের আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের এই পদক্ষেপ মামদানির জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি প্রমাণ করে যে তিনি শহরের সমস্যাগুলোকে প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে সক্ষম, শুধুমাত্র নির্বাচনী বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়।
মামদানি পুলিশ সংস্কারের পক্ষে থাকলেও, তিনি নিশ্চিত করতে চান যে পুলিশ কর্মীরা যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামে সজ্জিত থাকবেন। এতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হবে এবং কমিউনিটির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এছাড়া, তিনি মনে করেন, শহরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে নিয়মিত সংযোগের মাধ্যমে পুলিশি সংস্কারকে আরও কার্যকর করা সম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটির নিরাপত্তা ও কমিউনিটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে পারে। মামদানির এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়, বরং শহরের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নীতি ও কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সময়ে, এই পদক্ষেপ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্যও একটি সংকেত হিসেবে কাজ করছে যে, মামদানি তার নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগে ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ এটি প্রমাণ করে যে প্রার্থী কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বাস্তব কর্মেও বিশ্বাসী।
শহরের নিরাপত্তা ও সামাজিক ন্যায় নিয়ে মামদানি বিভিন্ন সময়ে বিবৃতিও দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “শহরের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে কমিউনিটির সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ।”
মেয়র নির্বাচনের ক্ষেত্রে পুলিশ সংস্কারের প্রশ্নটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। অনেক ভোটার পুলিশ সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখেন, বিশেষ করে সম্প্রদায়ভিত্তিক সমস্যার মধ্যে যেখানে পুলিশ ও নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক দূরত্বপূর্ণ। মামদানির এই উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারে।
মামদানির প্রচারণা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত। তিনি বিভিন্ন কমিউনিটি নেতা, নাগরিক সংগঠন এবং স্থানীয় নীতি প্রণয়নকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। এই প্রক্রিয়ায় তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনসমর্থন বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন।
পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মামদানি শুধুমাত্র নির্বাচনী কৌশল গ্রহণ করেননি, বরং শহরের নিরাপত্তা ও কমিউনিটির মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ শহরের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নীতি গঠনে একটি মাইলফলক হতে পারে।
মামদানির প্রয়াসটি NYC-এর অন্যান্য প্রার্থীদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করছে। এটি প্রমাণ করে যে, মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী কেবল প্রচারণার কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারে।
মেয়র নির্বাচনের ভোটারদের জন্য এই পদক্ষেপ একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, মামদানি শহরের নিরাপত্তা ও কমিউনিটি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। এটি নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




