নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় একটি ২০ তলা আবাসিক ভবনের একাংশ বিস্ফোরণের কারণে ধসে পড়েছে — তবে আশ্চর্যের ব্যাপার, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ অক্টোবর সকালে মিচেল হাউস (Mitchel Houses) নামে পাবলিক হাউজিং প্রকল্পে, সেখানে একটি বিশাল চিমনির অংশ ভবনের পাশে বিলীন হয়ে যায়। ধ্বংসস্তুপে ইট, এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট ও ধুলোয় ঢাকা হয়ে যায় আশপাশের রাস্তা ও বাগান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তারা ভোরে একটি দুঃস্বর বিস্ফোরণ শুনেছেন, পরে ভবন কেঁপে উঠেছে ও ধুলার একটা মেঘ ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়র এরিক অ্যাডামস ও ব্রঙ্কস বোরো প্রেসিডেন্ট ভানেসা গিবসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, “এক মিলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”
2 Oct 2025 | Pic: Collected
তালাশ ও উদ্ধার কর্মীরা ধ্বংসস্তূপে ঘুরছেন, কুকুর ও বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন কোনো মানুষ চাপা পড়ে আছে কি না তা যাচাই করার জন্য। কিছু অ্যাপার্টমেন্ট পুর্বকভাবে খালি করা হয়েছে, বাসিন্দাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তার জন্য।ভবন ও আশপাশের এলাকা বন্ধ রাখা হয়েছে নিরাপত্তার জন্য এবং গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে, কারণ বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গ্যাস লিককে সন্দিহান করা হচ্ছে।
এই ভবনটি নিউ ইয়র্ক সিটির হাউজিং অথরিটির (NYCHA) আওতাভুক্ত, যা পুরনো অবকাঠামো সমস্যার জন্য বহু বছর ধরেই সমালোচনার মুখে। এক ২০২৩ সালের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, মিচেল হাউজিং কমপ্লেক্সে আগামী ২০ বছর ধরে প্রায় ৭২৬ মিলিয়ন ডলার এর মেরামতের প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে গরম রেশন, ইনস্টলেশন ও মৌলিক নির্মাণ কাজ। অনেক বাসিন্দা ইতিমধ্যে বলছেন, ছাদ ও দেয়ালের ফাটল, রসতরল সমস্যাসহ গ্যাস গন্ধের অভিযোগ তারা বহুবার করেছেন।
নিরীক্ষা ও তদন্ত শুরু হয়েছে — বিল্ডিং ইন্সপেক্টররা ভিত্তি, দেয়াল ও অন্যান্য অংশের স্থায়ীত্ব পরীক্ষা করছেন। সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনায় ধ্বংসকৃত চিমনির অবশিষ্টাংশ অপসারণ করা হবে এবং দ্রুতই ভবন মেরামতের কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় বক্তারা বলছেন, এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পুরনো অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি প্রমাণ। অনেকেই দাবি করছেন, যেসব ভবন বহু বছর ধরে পরিচালনা করা হচ্ছে, সেসবের মেরামত ও নজরদারিতে অধিক ত্বরান্বিত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বাসিন্দারা নিরাপত্তা ফিরে চাইছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধ্বংসকাণ্ড এড়ানো যায়।



