নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচিত নতুন মেয়র Zohran Mamdani–র প্রশাসন হাতে নেওয়ার অগ্রগতি হিসেবে, পুরনো মেয়র Eric Adams–র অধীনে থাকা প্রায় ১৭৯ জন সিটি হল কর্মীকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর ২০২৫) Mamdani–র ট্রানজিশন টিম এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ফোন দিয়ে জানায়, এবং জানায়, নতুন প্রশাসনে জায়গা পেতে হলে তাদের পদ ছাড়তে হবে।

26 Nov 2025 | Pic: Collected
এই ছাঁটাইয়ের মধ্যে রয়েছে উপ–মেয়র, কমিশনার, এবং অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিরা — অর্থাৎ যারা রাজনৈতিক নিয়োগে ছিল এবং সরাসরি Adams–র প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। মোট সিটি হল প্রশাসনায় থাকবে প্রায় ১,২০০ জন; তাই ১৭৯ জন ছাঁটাই মানে মোটের কিছুটা অংশ রূপে হলেও, এটি একটি বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন।
Mamdani–র টিমের মুখপাত্র Dora Pekec জানিয়েছেন, নতুন প্রশাসনের উদ্দেশ্য হলো “নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা”, এবং অতীতে প্রাক্তন প্রশাসনের কর্মীরা থেকেই নতুন কাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ট্রানজিশনের এই নিয়ম পুরনো প্রশাসন ছাড়ার সময় সাধারণত দেখা যায়, তবে বর্তমান পরিমাণ এবং সময় একসঙ্গে বিবেচনায় এটি বিশেষ।
ছাঁটাইয়ের খবর পেয়ে অনেক কর্মী শক হয়েছেন। ২ বছরের বেশি সময় ধরে সিটি হলে কাজ করা এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কাজ করতে চেয়েছি, রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কিছু ছিল না।” অন্য একজন বলেন, “হঠাৎ করে জানিয়েছেন, অবাক হয়ে গেলাম।”
কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই ছাঁটাই শুধু প্রশাসনিক নয় — এটি রাজনৈতিকভাবে একটি “রূপান্তর” বা শক্তিগত পালাবদল। পুরনো প্রশাসনের কাজ বা প্রেরণা নির্বিশেষে, প্রায় দুইশ’ জনকে একসঙ্গে বদলি করতে গেলেই সেটা অনেক সময় অনিশ্চয়তা এবং কাজের continuity ভেঙে দিতে পারে। এক মুখপাত্র বলেন, “এগুলো দীর্ঘকাল সেবা দেওয়া সার্ভেন্ট; রাজনৈতিক খেলায় তারা হারানো ঠিক নয়।”
নতুন মেয়র হিসেবে Mamdani–র প্রতিশ্রুতি ছিল — সস্তা বাড়ি, সামাজিক ন্যায্যতা, এবং জনগণের কণ্ঠের প্রতি শ্রবণশীল প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, কর্মী–ছাঁটাই এবং নতুন নিয়োগের ধাপের মাঝেই যদি কাজের কোন শৃঙ্খলা না থাকে, তাহলে জনগণের জন্য সুবিধা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে, নতুন প্রশাসনের হাতে হেরফেরের চাবিকাঠি রয়েছে: পুরনো ভুলগুলো সংশোধন, পরিষেবা কার্যকর রাখা, এবং নতুন পরিকল্পনায় জরুরি পদ পূরণ।
এই ছাঁটাইমানবিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব বহন করে — কারণ শুধু দুর্নীতি নয়, সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা, কর্মী-আইনগত নিরাপত্তা, এবং প্রশাসনের স্থিততা সবই এখন চ্যালেঞ্জ।




