নিউ ইয়র্ক রাজ্যে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে, যেখানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি কর্মী Mehul Goswami (৩৯) নামে এক কর্মকর্তা একসঙ্গে দুই ফুল-টাইম চাকরি করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি একজন রাজ্য সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে New York State Office of Information Technology Services-এ ডিজিটাল প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন, আর পাশাপাশি তিনি একটি নিউ ইয়র্ক স্টেটের মাল্টা শহরের স্মার্টচিপ হাই-টেক কোম্পানি GlobalFoundries-এ ঠিকাদারি ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন।

25 Oct 2025 | Pic: Collected
তদন্তকারী সংস্থার মতে, তিনি সরকারি চাকরির ঘণ্টার সময় কম্পিউটার স্ক্রিনে রাষ্ট্রীয় কাজে থাকা অবস্থায় গোপনে কোম্পানির কাজ করছিলেন, এবং এভাবে রক্ষা পেয়েছে প্রায় ৫০,০০০ ডলার ট্যাকার্পেয়ার অর্থের অনিয়মের ঘটনা। নিউ ইয়র্ক রাজ্যের ইনস্পেক্টর জেনারেল Lucy Lang বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের প্রতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সততা নিয়ে কাজ করার। কিন্তু একজন একই সময়ে দুই চাকরিতে থাকলে — একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় অন্য কাজে যুক্ত হলে — তা জনসাধারণের আস্থা ও নির্বাচিত সংস্থার নৈতিকতা উভয়কেই ক্ষুণ্ন করে।”
গোস্বামি ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর গ্রেফতার হন এবং মাল্টা টাউন কোর্টে হাজির হয়েছেন। অভিযোগ অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড লারসেনি ইন দ্য সেকেন্ড ডিগ্রি (Class C felony) দায়ের করা হয়েছে, যা পূর্ণভাবে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে “মুনলাইটিং” বা এক সময়ে দুই চাকরিতে যুক্ত থাকার প্রবণতা নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করেছে। বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্কের যুগে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন গোপনে অন্য কাজ করা কতটুকু আইনসিদ্ধ এবং কতটুকু নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয় — এটি পদাধিকার, জনসম্পদ ব্যবহার এবং সরকারি নিয়োগ-নীতি সংশ্লিষ্ট গভীর প্রশ্নও তোলে। গোস্বামিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্পোরেট ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের এক উদাহরণ হিসেবে দেখছে, যারা প্রযুক্তি-চালিত কোম্পানিতে কাজ করছেন এবং একই সময়ে সরকারি কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যম এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরকে দ্রুত ছড়িয়েছে, এবং তা ভারতীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এদিকে, নিউ ইয়র্ক স্টেটের শেরিফ অফিস এবং ইনস্পেক্টর জেনারেল বরাবরই জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আনুগত্য ও নৈতিকতার অভাব দেখলে কঠোরভাবে পদক্ষেপ নেবে। আগামী দিনগুলিতে আদালতে মামলার শুনানি শুরু হবে, এবং এটি একটি নজিরমূলক মামলা হয়ে উঠতে পারে।




