নিউ ইয়র্ক শহরের নতুন মেয়র নির্বাচিত জোহরান মামদানি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, গৃহহীনদের “তাঁবু ভেঙে কালক্ষেপণ না করে” তাদের জন্য স্থায়ী বা অস্থায়ী গৃহ বা আশ্রয়-ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই কাজ একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয় তাই তিনি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নেতাদের সঙ্গে আলাপ শুরু করেছেন, যাতে তারা বিনিয়োগ বা সম্পদ দিয়ে গৃহহীনদের জন্য বাড়ি, ফ্ল্যাট বা সমাজভিত্তিক আশ্রয় নির্মাণে অংশ নিতে পারেন।
10 Dec 2025 | Pic: Collected
মামদানির মতে, শুধু তাঁবু বা অস্থায়ী ক্যাম্প নয় — গৃহহীনদের আসল সমাধান হবে “বাসিন্দা হিসেবে গৃহায়ন”। তিনি বলছেন, অনেক গৃহহীন শহরবাসী ইতিমধ্যেই কাজ করেন, কিন্তু ভাড়া বা গৃহাভাবে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ ও স্থায়ী ঠিকানা না পেয়ে রাস্তা-নির্ভর জীবনযাপন করছেন। এমন বাস্তবতায়, যদি ভবন মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট ক্ষেত্রে যারা জায়গা বা সম্পদ রাখেন — তারা কিছু অংশ দান বা বিনিয়োগ হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায়, তাহলে দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মামদানির ভাষায়, “এই শহর আমাদের সব—শিল্প, বাণিজ্য, বাসস্থান ও মানুষের অধিকার। কারো জন্য রাস্তা বা তাঁবু হবে না প্রত্যেকে থাকবে নিরাপদ গৃহে।” এই সংকল্পের অংশ হিসেবে, মেয়র-নির্বাচন পরবর্তী প্রথম কাজগুলোর মধ্যে একটি হবে একটি “হাউজিং ভাউচার / উৎসাহ প্রোগ্রাম” চালু করা, যা গৃহহীনদের ভাড়া বা গৃহলভ্যতা নিশ্চিত করবে।
এই উদ্যোগকে ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী মহলের একাংশ সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে — এর মাধ্যমে শহরের রিয়েল এস্টেট সেক্টর, কনস্ট্রাকশন, সামাজিক কাজ ও দান-সংস্কৃতি এক সঙ্গে জাগ্রত হবে। এতে নতুন কাজ সুযোগ তৈরি হবে, এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে বাণিজ্যিক উন্নয়নও হবে।
তবে, বিশ্লেষকরাও বলেছেন — বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ, গৃহহীনদের জন্য বাড়ি বানানো বা গৃহায়নযোগ্য ফ্ল্যাট তৈরি করতে বড় খরচ, দীর্ঘ সময়, এবং আইন, জোনিং (জমি ব্যবহারের আইন) নিয়মাবলী মেনে চলা লাগবে। সাথে, যারা সম্পদ দান বা বিনিয়োগ করবে তাদের উৎসাহ ও নিরাপত্তা দিতে হবে।
গৃহহীনদের জন্য ভোর-রাস্তাঘাট তাঁবু ভেঙে ফেলার পরিবর্তে বিনিয়োগ ও গৃহায়নভিত্তিক সমাধান এই মডেল বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে, যখন শহরটি অভিবাসী, ন্যূন-আয়ের মানুষ, কাজপ্রার্থী ও নিম্ন-আয়ের অনেক বাসিন্দা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
মামদানির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে, নিউ ইয়র্কে গৃহহীনতার বিরুদ্ধে “তাঁবু ভেঙে দূরীকরণ” নয় “বাসগৃহ ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত” হবে মূল নীতি। ফলে শুধু মুহূর্তিক সমস্যার সমাধান নয় দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক নিরাপত্তা, গৃহনিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত হওয়ার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।



