নিউ ইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের পার্ক হিল সেকশনের ১৯৫ স্টিউবেন স্ট্রিটে ঘটেছে এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনা, যা রীতিমতো শহরজুড়ে তোলপাড় ফেলেছে। সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার নিজের ভাইঝিকে – মাত্র এক বছর বয়সী একটি শিশুকে – ভবনের তৃতীয় তলা থেকে গার্বেজ শুটে ছুড়ে ফেলে দেন। এই গার্বেজ শুট (বা ট্র্যাশ শুট/রিফিউজ শুট) মূলত একটি উল্লম্ব পাইপের মতো পথ, যার মাধ্যমে ভবনের উচ্চ তলা থেকে নিচের বেজমেন্টে রাখা আবর্জনার কনটেইনারে ফেলা হয় বর্জ্য। অথচ সেই পথ দিয়েই ফেলে দেওয়া হয় একটি নিষ্পাপ শিশু!

22 July 2025 | Pic: Collected
ঘটনার আগেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করে প্রতিবেশীরা জানান যে, ভবনে এক মানসিকভাবে অস্থির ব্যক্তি অদ্ভুত আচরণ করছে এবং আশেপাশে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটে যায়, যখন একজন প্রত্যক্ষদর্শী গার্বেজ শুটের কাছ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ পান এবং তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশকে জানান।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গার্বেজ শুটের নিচে, ভবনের বেজমেন্ট থেকে শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল নর্থে, যেখানে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরে হালকা ধরনের ক্ষত রয়েছে তবে সে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে এবং জীবনহানির আশঙ্কা নেই।
নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) নিশ্চিত করেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির কাকা এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়নি, তবে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক সহিংসতা ও শিশু নির্যাতনের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে প্রতিবেশীরা এই ঘটনার পর ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা কেশিয়া লেসি বলেন, “আমি শিশুটির কান্না শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কেউ স্বাভাবিকভাবে এমন কাজ করতে পারে না। এটা ভয়ানক।” আরেক প্রতিবেশী বলেন, “আমরা সবাই ওকে যেন আমাদের নিজের সন্তান বলেই ভাবছি। ওর সঙ্গে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”
এই ঘটনার পর ভবনটিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, ভবনের প্রবেশাধিকার ও গার্বেজ শুটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে যেন ভবিষ্যতে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিউ ইয়র্কের শিশু সুরক্ষা বিভাগ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই নির্মম ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র অফিস, পুলিশ, এবং শিশু সুরক্ষা বিভাগ একসঙ্গে কাজ করে এমন ভয়াবহ ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে সে জন্য সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনা সমাজকে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিল, মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং অবহেলা করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।




