যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর পদে লড়াই থেকে রিপাবলিকান কংগ্রেসউোম্যান ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এলিস স্টেফানিক অকস্মাৎ অব্যহতি ঘোষণা করেছেন এবং পাশাপাশি পরবর্তী সাল ২০২৬-এর নির্বাচন ও পুনঃনির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণা রাজ্য-রাজনীতিতে, বিশেষ করে ২০২৬-এর গভর্নর নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় একটি বড় প্রভাব ফেলেছে।

20 Dec 2025 | Pic: Collected
স্টেফানিক ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রিপাবলিকান প্রাইমারি লড়াইয়ে নামার পরিকল্পনা শুরুর পর থেকে প্রায় এক মাসের কম সময়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তায় বলেছেন, “বছরের অর্ধেক সময় জুড়ে সময় ও আপনাদের অর্থ অপচয় করে রিপাবলিকান দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দীতা করা অপ্রয়োজনীয়।” এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন, বিশেষ করে ক্রিসমাসের সময়ে পরিবারের পাশে থাকার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্টেফানিকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে নাসাউ কাউন্টি নির্বাহী ব্রুস ব্ল্যাকমেনের রিপাবলিকান গভর্নর প্রাইমারিতে অংশ নেওয়াও একটি বড় কারণ ছিল, যারা একই দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছিলেন। স্টেফানিক মন্তব্য করেছেন যে, একই দলের দুই প্রার্থীর লড়াই সময়ের ও সম্পদের অপচয় হবে, যা রিপাবলিকানদের জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। এই অবস্থায় তিনি লড়াই থেকে সরার সিদ্ধান্ত নেন এবং সেইসঙ্গে ২০২৭ সালে তাঁর কংগ্রেস পদ থেকে অবসর গ্রহণ করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন, ফলে রাজ্যের রিপাবলিকান প্রার্থিতার পথে ব্ল্যাকমেন ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীকে গতি মিলেছে।
এলিস স্টেফানিক একজন দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান নেতা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৪ সালে সংসদে সবচেয়ে কম বয়সে নির্বাচিত মহিলা হিসেবে প্রথম দিকের রাজনৈতিক গুরুত্ব অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ট্রাম্প আমলে হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স চেয়ার-এর মতো উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ট্রাম্প-সমর্থিত নীতি ও বক্তব্যগুলোর প্রকাশ্যে সমালোচক ও সমর্থক উভয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন, বিশেষত নির্বাচনী ও নীতি-সম্পর্কিত ইস্যুগুলোতে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নিউ ইয়র্কের রিপাবলিকান প্রাইমারিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্রুস ব্ল্যাকমেনকে অনুমোদনের পথ খুলে গেছে, যিনি সম্প্রতি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের অংশগ্রহণ ঘোষণা করেছেন। রিপাবলিকান দলের জন্য এটি একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের সময়, যেখানে তারা ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী তৈরি করার চেষ্টা করবে।
স্টেফানিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি হবে, বা তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাবেন কি না—এটি এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেছেন যে তিনি পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে চান, বিশেষত তার তরুণ ছেলেকে বড় হতে সাহায্য করতে চান, এবং অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংঘর্ষে সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে চান না — এই ভূমিকা তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিউ ইয়র্কে আগামী ২০২৬-এর গভর্নর নির্বাচনের রাজনীতি আরও গুরুত্ব ও উত্তেজনা লাভ করেছে, যেখানে প্রাক্তন মেয়র ও অন্যান্য সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রার্থীরা এবারই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসতে পারে, এবং ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত রাজ্যে রিপাবলিকানদের কৌশল নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চূড়ান্তভাবে, স্টেফানিকের অব্যহতি ঘোষণা মার্কিন রাজ্য রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, বিশেষ করে রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির দিক থেকে তা নতুন পরিস্থিতি ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, এবং আগামী মাসগুলোতে এই প্রতিযোগিতা কেমন রূপ নেবে সেটাই এখনো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে।




