যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভে লাখো আমেরিকান অংশগ্রহণ করেছেন। এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনব্যবস্থাকে স্বৈরাচারী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। বিক্ষোভকারীরা সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশের বিশাল ব্যানার বহন করেন, সঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং ব্যাঙ, সাঁপ, স্পঞ্জববের মতো ইনফ্ল্যাটেবল পোশাক পরিধান করেন—যা পোর্টল্যান্ড, ওরেগন থেকে উদ্ভূত প্রতিরোধের চিহ্ন।

19 Oct 2025 | Pic: Collected
বিক্ষোভের পটভূমি ও উদ্দেশ্য
এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে ২০০টিরও বেশি প্রগতিশীল সংগঠন, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নীতি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, নাগরিক স্বাধীনতা হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হুমকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিক্ষোভকারীরা ‘কিংস নয়’ স্লোগান দিয়ে প্রেসিডেন্টের শাসনব্যবস্থাকে রাজতন্ত্রের দিকে ধাবিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
রিপাবলিকানদের প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভের দিন রিপাবলিকান নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল সীমিত। ফক্স নিউজসহ কনজারভেটিভ মিডিয়া এই বিক্ষোভকে ‘হেট আমেরিকা’ আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং জর্জ সোরোসের সঙ্গে এর আর্থিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছে। তবে, বিক্ষোভের দিন রিপাবলিকান নেতাদের কাছ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তারা আমাকে রাজা হিসেবে উল্লেখ করছে। আমি রাজা নই।” তবে, তার প্রচারণা দল বিক্ষোভের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ মনোভাব প্রকাশ করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে তাকে রাজা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক নেতাদের সমর্থন
বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, চুক শুমার, রাফায়েল ওয়ারনক, স্টেসি অ্যাব্রামস এবং ন্যান্সি পেলোসি। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করেছেন এবং জনগণকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিক্ষোভের বৈশিষ্ট্য
বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অনেক স্থানে সঙ্গীত পরিবেশন, ব্যানার প্রদর্শনী এবং সৃজনশীল পোশাক পরিধান করে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিকাগো, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, পোর্টল্যান্ড, আটলান্টা এবং সান ফ্রান্সিসকোসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিকাগোতে একক বিক্ষোভে ১,০০,০০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণ করেছেন।
সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ
বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের নীতির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে, রিপাবলিকান দলের নেতাদের কাছ থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিক্ষোভটি আমেরিকার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকবে।




