যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা অভিবাসী ভারতীয় সমাজে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নিহত ব্যক্তি চন্দ্রমৌলি নগামল্লাইয়া, বয়স ৫০, যিনি স্থানীয়ভাবে “বব” নামে পরিচিত ছিলেন এবং Downtown Suites motel-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনা শুরু হয় একটি ছোট্ট বিষয় থেকে—মোটেলের একটি ভাঙা ওয়াশিং মেশিন নিয়ে। সেখানে কর্মী ইয়োরদানিস কোবোস-মার্টিনেজ (Yordanis Cobos-Martinez), কিউবা থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিক, চন্দ্রমৌলির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। চন্দ্রমৌলি সরাসরি তার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা না বলে আরেকজনকে দিয়ে অনুবাদ করতে বলেন।

15 September 2025 | Pic: Collected
এই সামান্য নীরবতা ও যোগাযোগ-পদ্ধতিই অভিযুক্ত কর্মীর মধ্যে প্রবল রাগের জন্ম দেয়। কিছুক্ষণ পর কোবোস-মার্টিনেজ এক ভয়ঙ্কর অস্ত্র, বড় মাচেটে নিয়ে ফিরে আসে এবং আচমকা চন্দ্রমৌলির ওপর হামলা চালায়। আতঙ্কিত হয়ে চন্দ্রমৌলি দৌড়ে অফিসের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, তার স্ত্রী ও ১৮ বছর বয়সী ছেলে সামনে থেকে এসে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিযুক্ত তাদের ধাক্কা মেরে পাশ কাটিয়ে যায়। এরপর প্রকাশ্যে, তাদের চোখের সামনে একের পর এক কোপ দিতে থাকে। ভুক্তভোগীর গলা ও মাথায় একাধিক আঘাত করার পর শেষ পর্যন্ত মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, এমনকি মাথা লাথি মেরে সরিয়ে দেয়—যা প্রত্যক্ষ করেছে অসহায় পরিবার।
Fox4News ও India Today-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ডালাস শহরের ওই মটেলেই। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং অভিযুক্ত কিউবান নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে capital murder charge আনা হয়েছে, যা মার্কিন আইনে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ এবং প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। চন্দ্রমৌলি নগামল্লাইয়া আসলে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে আসা এক ব্যবসায়ী ছিলেন, কয়েক বছর আগে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন। স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটি তাকে পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে চিনতেন। তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শুধু ডালাস নয়, সারা আমেরিকার ভারতীয় অভিবাসী মহলে। এই ঘটনা আবারও অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। অনেকের দাবি, শুধু সাংস্কৃতিক পার্থক্য বা ভাষাগত বিভ্রান্তি থেকে এত বড় সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের অপরাধ অভিবাসীদের ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ও মানসিক চাপে ফেলে দিচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস থেকেও এ ঘটনায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, চন্দ্রমৌলি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার পরিচিতরা তাকে “বব” ডাকতেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বর্তমানে ভয়ঙ্কর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা ও আগের অপরাধের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনার নির্মমতা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার মিডিয়া ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। আমেরিকায় অবস্থানরত ভারতীয় সম্প্রদায় জোরালোভাবে দাবি করছে, অভিবাসী শ্রমিক ও কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ, একটি সাধারণ যোগাযোগ সমস্যার কারণে যদি প্রাণনাশ হয়, তবে তা সভ্য সমাজে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। চন্দ্রমৌলির মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, বরং আমেরিকার বহুজাতিক সমাজের জন্য এক সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মানের অভাব কতটা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে।



