যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী পলাশ সরকারকে সম্প্রতি মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর কর্মকর্তারা আটক করেছেন। পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় একটি আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েই তিনি গ্রেপ্তার হন। ফলে তার ইন্দোনেশিয়ান স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ভয়াবহ আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। আটক স্বামীর মুক্তি ও আইনি লড়াইয়ের খরচ চালাতে পলাশের স্ত্রী নিজেই একটি তহবিল খুলেছেন, যেখানে ইতোমধ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
7 Nov 2025 | Pic: Collected
জানা যায়, পলাশ সরকার ২০২১ সালে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Asylum) জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের দিনই আইস কর্মকর্তারা তাকে আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। শুরুতে ফিলাডেলফিয়া থেকে তাকে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, লুইজিয়ানা হয়ে বর্তমানে টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ জন অভিবাসীর সঙ্গে তিনি একটি ঘরে বন্দী অবস্থায় আছেন।
তার স্ত্রী জানিয়েছেন, আটক হওয়ার পর থেকেই তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সন্তানকে একা লালনপালন করছেন তিনি, কিন্তু আর কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই। আইনি খরচ ও জামিনের জন্য এখন তাদের জরুরি আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু দক্ষিণ এশীয় ও লাতিনো অভিবাসীর বাস্তবতা আজ এই ঘটনার মতোই অনিশ্চিত। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আরও ১৬ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। শুধু দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম মাসেই ৩৭ হাজার ৬৬০ জন অভিবাসীকে দেশান্তরিত করা হয়েছে, বর্তমানে ICE-এর হেফাজতে রয়েছেন ৫৯ হাজার ২০৭ জন অভিবাসী।
মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, এই নীতির ফলে বহু অভিবাসী পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, শিশুরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বর্তমানে পলাশ সরকারের পরিবার তাদের দৈনন্দিন খরচ, আইনজীবীর ফি ও শিশুর মৌলিক চাহিদা পূরণে জনসাধারণের সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন।



