পেনসিলভেনিয়ার ইয়র্ক কাউন্টির নর্থ কডোরাস টাউনশিপে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যখন তারা একটি গৃহসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে হামলাকারীর গুলিতে পড়েন। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ২টা ১০ মিনিটে হেয়ার রোডের কাছে একটি খামারবাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

18 September 2025 | Pic: Collected
রাজ্য পুলিশ কমিশনার কোলোনেল ক্রিস্টোফার পারিস জানিয়েছেন, অভিযোগটি ছিল “domestic-related”, অর্থাৎ পারিবারিক ঝামেলাজনিত, এবং সেই অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে প্রবেশের পরপরই বন্দুকধারীর গুলিতে লক্ষ্য হন। তিনজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই মারা যান, দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় ওয়েলস্প্যান ইয়র্ক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাদের অবস্থা বর্তমানে “গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল” বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারীও নিহত হয়, তবে তার পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং স্কুল ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে “shelter-in-place” অর্ডার দেওয়া হয় যেন সবাই নিরাপদে থাকতে পারে।
রাজ্যের গভর্নর জোশ শ্যাপিরো এই ঘটনাকে “অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সান্ডে বলেছেন, পুলিশের সাহসী ত্যাগ কখনোই ভুলে যাওয়া যাবে না এবং রাজ্য সরকার নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে থাকবে। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পেনসিলভেনিয়া স্টেট পুলিশ, ইয়র্ক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং ফেডারেল সংস্থা FBI ও ATF, যাদের লক্ষ্য পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত ও হামলাকারীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে বর্তমানে এলাকায় কোনো সক্রিয় হুমকি নেই। এই ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের ওপর সহিংসতার আরেকটি উদাহরণ, যা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখযোগ্য যে এর আগে ২০০৯ সালে পিটসবার্গে এক গৃহসংক্রান্ত কল মোকাবিলায় তিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছিলেন, এবং সম্প্রতি ইয়র্ক কাউন্টির আরেক ঘটনায়ও এক পুলিশ কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের অনুসন্ধান ও অভিযানে আরও নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ জরুরি, একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও গার্হস্থ্য সহিংসতার প্রতিরোধে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় মানুষ সামাজিক মাধ্যমে নিহত কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে সরকারের কাছে কঠোর বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন দাবি করছেন। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা শুধু তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় ধাক্কা, যা আবারও প্রমাণ করলো যে বন্দুক সহিংসতা ও গৃহসংক্রান্ত উত্তেজনা কীভাবে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে।




