একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে জাতীয় গার্ড (National Guard) মোতায়েনের পরিকল্পনা বিচারিক আদেশে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক কারিন ইমেরগুট (Karin Immergut) নির্দেশ দিয়েছেন, প্রবল আইনপ্রয়োগমূলক কারণ ছাড়া ফেডারেল সেনা মোতায়েন করা যাবে না।
বিচারক ইমেরগুট বলেন, পোর্টল্যান্ডে যে বিক্ষোভ ও অশান্তি হচ্ছে, তা “বিপ্লব” বা “লঙ্ঘন” করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং তাই ফেডারেল সরকারের সেনা মোতায়েনের দাবি যথাযথ প্রমাণের অভাবে অনুমোদন দেওয়া যায় না।
6 Oct 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে পোর্টল্যান্ড “যুদ্ধবিধ্বস্ত” অবস্থায় আছে এবং সেখানে অভিবাসন আইন (ICE) অফিসগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী ও অরাজকতা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওরেগন অঙ্গরাজ্য ও পোর্টল্যান্ড শহর কর্তৃপক্ষ বলেছে, সমস্যাগুলি ঘোষণা করা সংস্করণটি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
প্রথমে বিচারক শনিবার দিনে সিদ্ধান্ত দেন, যে ট্রাম্প প্রশাসন ওরেগনের গার্ড মোতায়েনের প্রস্তাব অন্তত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়: ওরেগনের বাহিনী অবরুদ্ধ হওয়ার পর, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস থেকে গার্ড সদস্য এনে মোতায়ন করার পরিকল্পনা করা হয়।
এই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ করতেই, বিচারক ইমেরগুট রোববার রাতে এক আপৎ আদেশে (emergency restraining order) ঘোষণা দেন যে— কোনো রাজ্য থেকেই ফেডারেলভাবে গার্ড মোতায়ন করা যাবে না। অর্থাৎ ক্যালিফোর্নিয়া বা টেক্সাসের গার্ড সদস্যরাও ওরেগনে আনা হবে না।
বিচারক প্রশ্ন তুলেছেন, “গতবছরের আদেশের পর অবস্থার কি এমন পরিবর্তন ঘটেছে যে নতুন রাজ্য থেকে সেনা আনা বৈধ হবে?” তিনি যুক্তরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের আইনজীবীদের এমন অদৃশ্য মঞ্চচালনার পন্থা চ্যালেঞ্জ করেন।
ওরেগন এবং ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল এই সঙ্কটে যুক্ত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া গভর্নর গ্যাভিন নিউজম (Gavin Newsom) ট্রাম্প প্রশাসনকে “আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার” হিসাবে অভিহিত করেছেন।
এই সিদ্ধান্ত (restraining order) কমপক্ষে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে, এবং এরপরে বিস্তারিত শুনানি হবে।
পটভূমি ও বিশ্লেষণ
২০২৫ সালের মাঝামাঝি থেকে পোর্টল্যান্ডে ইমিগ্রেশন ও অভিবাসন আইন (ICE) কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে নিয়মিত বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার কারণে নির্যাতিতদের প্রতি সহানুভূতি ও প্রতিবাদ করা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসন এই বিক্ষোভকে “সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম” এবং “অরাজকতা” হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং যুক্তি দিয়েছে যে স্থানীয় আইনপ্রয়োগ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম। তবে, বিচারক ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে যে বিক্ষোভ সাধারণত শান্তিপূর্ণ ও সীমিত পরিসরের এবং স্থানীয় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম।
এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল-রাজ্য ক্ষমতা ভাগ ও সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার সীমা নিয়ে একটি বড় অন্যরূপ বিরোধের অংশ। Posse Comitatus আইন অনুসারে, সাধারণত সেনাবাহিনীকে অভ্যন্তরীণ আইনপ্রয়োগ কাজে ব্যবহার করা যায় না। বিচারক ইমেরগুট তার আদেশে স্পষ্ট করেছেন যে, আইনগতভাবে ফেডারেল শক্তি ব্যবহারের ভিত্তি প্রমাণ করা না গেলে তা সংবিধান ও আইনের সীমা লঙ্ঘন করবে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই রায় কমিয়ে দেখার অপশন নিয়েছে এবং আপিল করার কথা বলেছে। Meanwhile, পোর্টল্যান্ড তথা ওরেগন রাজ্য প্রশাসন ও আইনজীবীরা আদালতে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও যুক্তি উপস্থাপন করতে প্রস্তুত।



