গত সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস হাই স্কুলের এক সিনিয়র ছাত্র, ১৮ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মার্সেলো গুয়েরেরো ক্রুজকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় তিনি তার পোষা কুকুরটি নিয়ে হাঁটছিলেন এবং অভিযোগ রয়েছে যে, আইস কর্মকর্তারা কুকুরটিকে ছেড়ে দিয়ে চলে যান, যার ফলে কুকুরটি কিছু সময়ের জন্য বিপদে পড়ে। ক্রুজকে ভ্যান নুইস থেকে আটক করা হয়, কারণ তার ভিসার মেয়াদ ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। ক্রুজের পক্ষে তৈরি করা গো ফান্ড মি প্রচারণার বরাত দিয়ে নিউজ উইক জানিয়েছে, তিনি তার ৫ মাস বয়সী যমজ ভাই এবং ৬ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের যত্ন নিতে নিয়মিত সাহায্য করেন।

17 August 2025 | Pic: Collected
প্রচারণায় তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ছেলে, যত্নশীল ভাই, বিশ্বস্ত বন্ধু এবং কমিউনিটির একজন মূল্যবান সদস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তার আইনি খরচ এবং পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ইতিমধ্যেই ১৯৮ ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার পর তার পরিবার ফেডারেল এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তারের ভয়ে আতঙ্কে বসবাস করছে। এলএইউএসডি (লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফাইড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট) এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে এবং তাদের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কঠোর অভিবাসন নীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও পরিবারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, ক্রুজের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশে ছিলেন, যা আইসের নজর কাড়েছে। এই ঘটনার প্রভাব স্থানীয় কমিউনিটি ও শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন সামাজিক মাধ্যমে ক্রুজের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের রেশ কাটার আগেই, সোমবার সকালে লস অ্যাঞ্জেলেসের অন্য একটি এলাকায় ১৫ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়, যা আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই ঘটনার পর এলএইউএসডি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ১০০টি স্কুলের আশেপাশে কর্মী ও স্কুল পুলিশের টহল স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এলএইউএসডি সুপারিনটেনডেন্ট আলবার্তো কারভালহো বলেছেন, “তার বয়স ১৮ বছর, সে এখনও অনেক কিছুর সংস্পর্শে আসেনি। দিনে একবার পানি পান করে এবং পর্যাপ্ত খাবার পায় না। তার মা জানিয়েছেন, যেখানে কিশোরটিকে রাখা হয়েছে সেখানে বসার বা শুয়ে থাকার পর্যাপ্ত জায়গা নেই।” এই ঘটনার পর কমিউনিটি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, যেখানে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন একজন পোষা কুকুরের সাথে হাঁটতে বেরিয়ে কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হলো এবং আইসের এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা ন্যায্য। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন আইন কঠোর হলেও, শিক্ষার্থী ও কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ব এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা আবশ্যক।
তারা আরও উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের গ্রেপ্তার প্রায়শই ছোট কমিউনিটি ও পরিবারের ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপ বৃদ্ধি করে। এর পাশাপাশি, বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলো বেঞ্জামিনের মুক্তি ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তহবিল সংগ্রহ এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে গেলে মানবিক ও সামাজিক দিকগুলো উপেক্ষা করা যাবে না, এবং বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মানবাধিকার, শিশুদের সুরক্ষা এবং আইন প্রয়োগের সীমার মধ্যে ভারসাম্য কেমন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন এবং কমিউনিটি সচেতনতা মেলানো না গেলে, ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কমিউনিটি সচেতনতা, আইনগত সহায়তা, এবং পরিবারের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন একান্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।




