নিউ ইয়র্কে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে এক NYPD সার্জেন্ট — আতিকুল ইসলাম (আতিক) — তাঁর ব্যক্তিগত কষ্টের প্রতিশোধ নিতে ভুয়া ICE (Immigration and Customs Enforcement) এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং এক নারীকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। জনসংযোগ সংবাদমাধ্যম নিউস পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, আতিক প্রথমে ওই নারীর সঙ্গে অনলাইনে পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন এবং পরে, যখন তার রোমান্টিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়, তখন তিনি আইনগত ও অভিবাসন-ভীতির অপব্যবহার শুরু করেন।

21 Nov 2025 | Pic: Collected
অভিযোগ অনুযায়ী, আতিক তার ভুয়া পরিচয়ে বলেছিলেন যে তিনি “ICE ফিল্ড ডিরেক্টর” এবং ওই নারীর পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট তারিখে ICE অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি ও তাঁর পরিবারের অভিবাসন অবস্থা স্পষ্টভাবে জানা না থাকলেও, ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনগত প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনাটি NYPD-র অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় ধরা পড়ে, এবং তাদের অন্তঃনিরীক্ষা (Internal Affairs) বিভাগ তদন্ত শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, আতিককে মিথ্যা ফেডারেল অফিসারের ছদ্মবেশ করার এক গঠনমূলক অভিযুক্তি (false personation) দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল — ২৫,০০০ ডলার পার্সোনাল বন্ডে। তবে তাঁর চাকুরি ও সার্ভিস অস্ত্র সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং তিনি সাসপেন্ডেড (তৃতীয় পক্ষ বলেছে) রয়েছেন।
আদালতে আদালত একজন বিচারক আতিকের সঙ্গে নির্ধারিত যোগাযোগ স্থাপন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তিনি অভিযুক্তকে বলেছিল, “সে জানে সেই নারীর ঠিকানা।” যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে আতিক সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এই ঘটনা শুধুমাত্র এক ব্যক্তির প্রতারনার নয় — এটি বড় ধরণের আইনগত ও সামাজিক প্রশ্ন তুলে ধরে: এক পুলিশ কর্মকর্তা যে নিজেকে ফেডারেল এজেন্ট হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তা আমাদের আইন-প্রয়োগ সংস্থা ও ক্ষমতার ব্যবহারের ন্যায্যতা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ তৈরি করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা জনগণের মধ্যে বিশ্বাস হ্রাস করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে। অন্যদিকে অভিবাসীদের সম্প্রদায়ে এমন প্রতারক কৌশল অ্যাটমিক ভয় ও নিরাপত্তা সংকট জাগাতে পারে, বিশেষত তাদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যেই ভীতি ও অসামঞ্জস্যতার শিকার।
সর্বোপরি, আতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও গ্রেফতার তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে উঠে আসা প্রতিশোধের সরাসরি ফল, কিন্তু তার প্রভাব অনেকদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে — আইন প্রয়োগের রূপ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের মধ্যে যে সঙ্কীর্ণ সীমা আছে, সেটি আবার নতুনভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।




