গত ১৫ আগস্ট ২০২৫ (মঙ্গলবার) ফ্লোরিডা টার্নপাইকের সেন্ট লুসি কাউন্টি এলাকার মাইল মার্কার 171-এর নিকটে ঘটে এক ভয়াবহ ঘটনা, যটমাত্র এক অবৈধ ইউ-টার্ন ট্রাক চালকের কর্তৃত্বহীনতার কারণে তিন জন পথচারীর প্রাণহানি ঘটে । ট্রাক চালক হরজিন্দর সিং, যিনি ২০১৮ সাল থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন, অনুমতি ছাড়াই ট্রাকটি পরিচালনা করে এই খারাপ সিদ্ধান্ত নেন—একটি অঞ্চল যা “Official Use Only”-এর জন্য নির্ধারিত ছিল, সেটিই পেছন থেকে U-টার্ন নেওয়ার জন্য ব্যবহার করেন ।

18 August 2025 | Pic: Collected
সেই সময় উত্তরমুখী ট্রাক বাম দান্ধর দিকে U-টার্ন নেয়, সামনাসামনি আসা একটি Chrysler Town & Country minivan-এর পথরোধ করে, যার ফলস্বরূপ ভ্যানটি ট্রাকের নিচে আটকে যায় এবং ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে । ঘটনাস্থলে 37-বছরের এক নারী (Pompano Beach থেকে) এবং 54-বছরের এক পুরুষ (Miami থেকে) নিহত হন; Florida City থেকে আসা ৩০-বছরের অপর একজন ভ্যান চালক আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু পরে তিনি সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। ট্রাক চালক এবং তার সহযাত্রী উভয়ে অনাহুত অবস্থায় থেকে যায়—উভয়েই ভালো আছেন ।
ফ্লোরিডা হাইওয়ে প্যাট্রোল (FHP)-এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ট্রাক চালকের আচরণ ছিল “শকিং এবং অপরাধমূলক”—এই দুর্ঘটনায় তিন ব্যক্তি জীবন হারাতে বাধ্য হন, যার কারণে তিনি তিনটি গাড়ি-নিহত মামলা (vehicular homicide)-এ অভিযুক্ত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে সঞ্চালিত আইস (Immigration and Customs Enforcement) তদন্তে নিশ্চিত হয়, তিনি অবৈধ অভিবাসী, এবং 287(g) প্রোগ্রামের আওতায় ICE-এর ডিটেইনার জারি করা হয়; এ ঘটনায় তিনি অভিবাসন লঙ্ঘন সম্পর্কিত অভিযোগ-এরও সম্মুখীন হচ্ছেন। ফ্লোরিডা সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের Dave Kerner বলেন, “এই ধরনের অপদার্থতা জনগণের জীবন যতটা অনুশোচনাহীনভাবে শেষ করে দেয়, তার দায়ভার কেউই নিতে চাইবে না” এবং এর পর তিনি নিশ্চিত করেন সিংকে বিচার শেষে নিষ্কাসিত (deportation) করা হবে ।
ফ্লোরিডা Turnpike-এ এমন নিষিদ্ধ ইউ-টার্ন নেওয়া স্পষ্টতই বিপজ্জনক; আধিকারিকদের জন্য ব্যতীত সাধারণ যানবাহনের জন্য তা অবৈধ । অভিজ্ঞ ট্রাক চালক Carlos Portela, যার ২৫ বছরের ট্রাকিং অভিজ্ঞতা রয়েছে, WPTV-কে বলেন: “যখন আপনি একটি কমার্শিয়াল লাইসেন্সধারী চালক, তখন এই ধরনের ভুল হওয়া উচিত না; আপনি সড়কে অন্যদের নিরাপদ ভাবার দায়িত্বে থাকেন। বাংলাদেশ বা ভারত থেকে আসা ড্রাইভিং অভ্যাস এখানে প্রয়োগ করা যায় না”।
ঘটনাটি সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হলে, অনেকেই ইমিগ্রেশন নীতি ও লাইসেন্স বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে—’কেন একজন অবৈধ অভিবাসীকে এমন লাইসেন্স দেওয়া হলো?’—এই প্রশ্নগুলো তুলছেন । কিছু মন্তব্য কুরুচিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক হলেও, ঘটনাটি পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন ড্রাইভিং এবং সড়ক সবলতা না নিশ্চিত করলে কোনো নিরাপত্তা বিধান কাজে আসে না।
এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি বিশ্লেষণকারীরা বলছেন, মৃতদের পরিবার রায় অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন, কারণ দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্টভাবে চালকের দায়িত্বহীনতা ও অবৈধ ইউ-টার্ন এর প্রমাণ রয়েছে, এবং এটি আইনগত দায়চক্রে (liability chain) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে যে: নারী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে, ট্রাক চালক ও লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধ থাকা আবশ্যক; নীতি ও মানবিকতা মিশিয়ে না গেলে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।




