ফ্লোরিডার ফোর্ট হোয়াইট শহরের এক বাড়ি যেন পরিণত হয়েছিল শিশুনির্যাতনের বিভীষিকাময় কারাগারে। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ অফিসের প্রকাশিত তথ্যমতে, সেই বাড়িতে বসবাসকারী নয়টি শিশুকে বেত্রাঘাত, শারীরিক নির্যাতন ও বেডরুমে আটক করে রাখা হতো দীর্ঘ সময় ধরে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজন প্রাপ্তবয়স্ককে—ব্রায়ান গ্রিফেথ (৫৫), জিল গ্রিফেথ (৪৭), তাদের সন্তান ড্যালিন গ্রিফেথ (২১) ও লিবার্টি গ্রিফেথ (১৯)।
এই বাড়িটি ফ্লোরিডার গেইনেসভিল শহর থেকে প্রায় ৩৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। তদন্তে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার শিশুগুলোর বয়স সাত থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে পাঁচজন ছিল জিলের জন্ম দেওয়া সন্তান, আর বাকি চারজন দত্তক নেওয়া।

27 July 2025 | Pic: Collected
শেরিফ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা শিশুদের মারধর করতেন এবং বেডরুমে আটকে রাখতেন। এমনকি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই শিশুদের ওষুধ খাওয়ানো হতো, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
তদন্তে আরো ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে—শিশুদের নির্দেশ দেওয়া হতো যেন তারা কারো কাছে কিছু না বলে, এমনকি নির্যাতনের কথা লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা হতো। শিশুরা সঠিক শিক্ষা ও স্কুল সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ছিল, যা তাদের ভবিষ্যতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
আদালতের নির্দেশে ওই বাড়ি থেকে নয়টি শিশুকেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন নিরাপদ স্থানে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতন, বেআইনি ওষুধ প্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ফ্লোরিডার এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারো প্রমাণ করে, ঘরের চারদেয়ালের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নির্যাতনের বিরুদ্ধে নজরদারি, সচেতনতা ও প্রতিবাদ জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই ধরণের অপরাধ রোধে একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।




