নিউ ইয়র্ক স্টেটের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ আসনে অ্যাসেম্বলিম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সিপিএ জাকির চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। এটি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার গর্বিত সন্তান জাকির চৌধুরীর জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত, যা শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির ঐক্যের নতুন ইতিহাস। ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি কমিউনিটি-ইউনিফাইড ক্যান্ডিডেট ব্যানারে আয়োজন করা একটি বিশেষ ইংরেজি ভাষার বিতর্ক সভাতে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী—জাকির চৌধুরী, জামাল হুসেইন ও ইমরান এম. শাহ—একই মঞ্চে অংশগ্রহণ করেন। দুই ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিতর্কে তিন প্রার্থীই তুলে ধরেন নিজেদের কর্মপরিকল্পনা, কমিউনিটির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যতের ভিশন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রঙ্কসের প্রভাবশালী কমিউনিটি লিডার, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি।

26 Oct 2025 | Pic: Collected
বিতর্কটি পরিচালনা করেন একজন নিরপেক্ষ মডারেটর, যিনি পুরো অনুষ্ঠানটি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেন। সভা শেষে অনুষ্ঠিত ইলেকট্রনিক ভোটাভুটিতে জাকির চৌধুরী বিজয়ী হন। ফলাফল ঘোষণার পর অপর দুই প্রার্থী—জামাল হুসেইন ও ইমরান এম. শাহ—নিজেদের পার্থক্য ভুলে গিয়ে জাকির চৌধুরীকে বিজয়ী করতে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এটি মুহূর্তেই দর্শকদের অভিভূত করে এবং কমিউনিটির মানুষ দেখেন, রাজনীতি নয়, ঐক্যই বড় শক্তি। অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, এটি শুধু একটি বিতর্ক অনুষ্ঠান ছিল না, এটি ছিল বাংলাদেশি-আমেরিকান ঐক্যের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
কমিউনিটি পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন, মতভেদ থাকলেও ঐক্যের পথে হাঁটা সম্ভব। ব্রঙ্কসের এই উদ্যোগ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিয়েছে। আয়োজনকারীরা প্রমাণ করেছেন, একসাথে কাজ করলে অসম্ভবও সম্ভব। উল্লেখ্য, এই বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিলো নিশ্চিত করার জন্য যে, তিনজন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে নির্বাচিত করে কমিউনিটির সমর্থনে জয়ী করা সম্ভব হবে।
এইভাবে, কমিউনিটির জনপ্রিয় মুখ এবং সক্রিয় নেতা জাকির চৌধুরী আগামী নির্বাচনে এককভাবে ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই উদ্যোগ এবং বিতর্কের মাধ্যমে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির ঐক্য প্রমাণ করেছে, যে রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও সহমত ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জয় সম্ভব। ব্রঙ্কসের এই উদ্যোগ বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, যেখানে কমিউনিটি লিডার, প্রার্থী ও ভোটাররা একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নেন এবং ঐক্যের মাধ্যমে সঠিক প্রার্থীকে এগিয়ে নিয়ে আসেন।
এই বিজয়ী মুহূর্তটি শুধু জাকির চৌধুরীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির এক নতুন দৃষ্টান্ত। আগামী নির্বাচনে সিপিএ জাকির চৌধুরীকে কেন্দ্র করে কমিউনিটি আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে, যাতে একটি প্রার্থীকে বিজয়ী করে কমিউনিটির কণ্ঠস্বর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিসরে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা যায়।



