নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রপ্রার্থী জোহরান মামদানি-র মাঠ-প্রচারনায় এবার দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র; প্রচারের মাঝপথে স্লোগান হয়ে উঠেছে বাংলায় — “আমার মেয়ার, তোমার মেয়ার, মামদানি মামদানি!” এই কথা উচ্চারণ করে উত্তেজনায় দোলাচ্ছে কুইন্স এবং ব্রংক্সের বাঙালি বাহিনী। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হিলসাইড অ্যাভিনিউ এলাকায় বাঙালি সমর্থকরা বাংলায় উচ্ছ্বসিত হয়ে নাচাগান করছেন এবং হাত নেড়ে স্লোগান দিচ্ছেন—“মামদানি মামদানি!”
3 Nov 2025 | Pic: Collected
এই দৃশ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু একটি প্রচারনার অংশ নয়—এটি বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও শক্তি প্রকাশের নতুন অধ্যায়। মামদানি অবশ্য শুধুই বাংলা স্লোগানে থেমে থাকেননি; তিনি র্যাংকড-চয়েস ভোটিং, ভাড়া ও বাস-পরিবহন, অভিবাসীদের কল্যাণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বাংলায় একাধিক বার ভাষণ দিয়েছেন। সমর্থকরা বলছেন, তাঁর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প-প্রশাসনের রাজনীতিতে থাকা ধারা ভেঙে নতুন একটা “অভিবাসী ও কর্মজীবী” ভোটারের চিত্র ফুটিয়ে উঠছে। বাঙালি ভোটার রুকন আহমেদ এক ভিডিওতে বলেন, “এই সব জীবনের কথা বলছে যিনি শুনছেন, তাতে আমরা মনে করি আমাদেরও মুখ রয়েছে।”
তাছাড়া, হিলসাইড অ্যাভিনিউর জনসভায় মামদানি নিজেই বলছেন, “যারা কখনো টেরোসিস্ট বলা হয়েছে, যাদের নাম প্রতিদিন বিকৃত হয়েছে—এই বলার জন্য বলছি, আমরা সবাই এখানে।” বাঙালি-সমর্থিত সামাজিক সংগঠনগুলো টিমভিত্তিক প্রচারণায় যুক্ত হয়েছ, বিশেষ করে “Bangalis4Zohran” ইনস্টাগ্রাম পেজ kautta বাংলায় আমন্ত্রণ ও বিস্তারিত প্রচার করেছেন।
এই সমর্থন শুধু জনপ্রিয়তা নয়, বাঙালি ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রতিফলনও বটে; শহরের অভিবাসী ভোটাররা বলছেন, তারা শুধুই নাম দেখে ভোট দেবেন না—বৃদ্ধি, কাজ, বাসস্থান ও শিক্ষা-উন্নয়নের জন্য লড়বেন এমন প্রার্থী খুঁজছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মনোবস্থা মমদানিকে শুধু বাঙালি সম্প্রদায়ের মুখ হয়ে উঠতে দিয়েছে না—তার কাছ থেকে সংগঠিত এবং নিয়মিত ভোটার ভিত্তি গঠনের পথ দেখাচ্ছে। তবে কিছু প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জ রয়েছ—কীভাবে তিনি এই উৎসাহকে নির্বাচনী ভোটে পরিণত করবেন? কীভাবে বাস্তব নীতিতে এটি রূপ নেবে? এসব নিয়েও আলোচনা চলছে। সুতরাং বলা যায়, বাংলা স্লোগান দিয়েই শেষ যাচ্ছে না—নিউ ইয়র্কের বাঙালি ভোটাররা এবার অংশ নিতে চাইছেন বৃহত্তর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে, আর মামদানির প্রচারণা সেই প্রবণতা অনুঘটক হয়ে উঠেছে।



