যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে গুরুত্বপূর্ন মন্তব্য করেছেন এবং বলেন, ইসরায়েলি–ফিলিস্তিনি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধান না করা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। তিনি যুক্তি দেখান যে, ফিলিস্তিনের জনগণকে স্বাধীনতা ও স্বশাসনের অধিকার দেওয়াই হলো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের মূল চাবিকাঠি। ওবামার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি শুধুমাত্র প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের মতামত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও কূটনৈতিক সমীকরণের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

29 September 2025 | Pic: Collected
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন একসঙ্গে প্রয়োজন, যাতে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নেতারা একটি কার্যকর শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত হন। ওবামা বলেন, “ফিলিস্তিনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র এবং স্বাধীনতা চাইছে, এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা উচিত। ইসরায়েলের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আসে না।” এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মানবিক ও কূটনৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও গণ্য করা উচিত। এছাড়া ওবামা সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলো যদি ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলির মধ্যে সমঝোতার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সংঘাতের নতুন রূপ ও সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সঠিকভাবে পরিচালনা করা উচিত।
ওবামা আরও উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে ফিলিস্তিনের মানুষ জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। তাই তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের স্বাধীনতার পথে সমর্থন দেওয়া এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওবামার এই বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলনও বহন করছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকরী ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়া একটি মৌলিক অংশ হবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা ওবামার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন যে, এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তিধর দেশের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলো এই বিষয়ের ওপর নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারে। ওবামা বলেন, “ফিলিস্তিনের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের স্বাধিকার দাবি করছে, এবং তাদের অধিকার স্বীকৃতি না দিলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার নিশ্চিত করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে সংঘাত প্রশমিত হয় এবং মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওবামার এই মন্তব্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছে একটি শক্তিশালী সংকেত হিসেবে কাজ করবে এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ওবামার বক্তব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতি, মানবাধিকার, শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।




