ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ১৯ জন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা। তাঁরা মনে করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হলে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বন্ধ করা জরুরি। আইনপ্রণেতাদের এই চিঠিটি সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে, যেখানে তাঁরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী ও কৃষিপণ্যের আমদানি বৃদ্ধিতে শুল্ক হ্রাস বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
9 Oct 2025 | Pic: Collected
চিঠিতে বলা হয়, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। তাই মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য প্রবেশের সুযোগ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য পাবেন এবং একই সঙ্গে আমেরিকান ব্যবসায়ীরাও নতুন বাণিজ্য সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। তাঁরা আরও বলেন, ভারত–আমেরিকা সম্পর্ক শুধুমাত্র কূটনৈতিক নয়, এটি অর্থনৈতিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১9 সালে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে “Generalized System of Preferences (GSP)” সুবিধা থেকে বাদ দিয়েছিল, যার ফলে হাজারো ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ হয়। এর ফলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে যায় এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যায়। কংগ্রেসের ১৯ সদস্য মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি সহজ করার পক্ষে কাজ করে আসছেন। তাঁরা ট্রাম্পকে আহ্বান জানান, ভারতীয় পণ্যে শুল্ক কমানোর পদক্ষেপ নিলে তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতীয় আইটি খাত ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপকভাবে ব্যবসা করে থাকে, এবং শুল্ক কমালে এই খাতগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও প্রযুক্তি খাতও ভারতের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য বাড়লে দুই দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের জনপ্রিয়তা যেমন বাড়ছে, তেমনি আমেরিকান প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির চাহিদাও ভারতের বাজারে দ্রুত বাড়ছে। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের জন্যই ‘উইন–উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।



