যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আমেরিকার United States Navy কে অনুমোদন দেন এমন একটি নৌ অভিযান চালানোর, যা ভেনেজুয়েলার একটি নৌযানকে লক্ষ করে করা হয় — এবং এই হামলায় দ্বিতীয়বারে নৌযানটি ধ্বংস করার ঘোষণা আসে, কারণ প্রথম হামলায় জীবিত থাকা দু’জনকে “ন্যানো-সন্ত্রাসী” হিসেবে ট্রিট করার সিদ্ধান্ত ছিল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ছিল আইনগত এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী; তারা বলেছে, অভিযুক্ত নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা ও স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য ছিল এই অভিযান।

2 Dec 2025 | Pic: Collected
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। আইনজীবী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং আইনগত বিশেষজ্ঞরা বলছেন — যেসব ব্যক্তি প্রথম হামলায় আহত বা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদের ওপর দ্বিতীয় হামলা চালানো হলে, সেটা হয়তো “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ, যুদ্ধ বা যুদ্ধসম্পৃক্ত কোন দেশ পর্যন্ত না হলেও, international law of armed conflict অনুযায়ী, জাহাজ ধ্বংসের পর জীবনশুন্য জায়গায় থাকা মানুষ (survivors / shipwrecked persons) — তাদের হত্যা করা যায় না।
এই নৌ‑হামলার প্রেক্ষিতে, যেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি আইনগতভাবে প্রমাণপত্র, chain‑of‑command এবং নির্দেশের নিয়মাবলী স্পষ্ট না হলে — তা আন্তর্জাতিক ও মার্কিন আইন উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রশ্ন তৈরি করছে। কংগ্রেসের উভয় দলের আইনপ্রণেতারা পরবর্তী সপ্তাহেই একটি hearing বা তদন্তের দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ২০টিরও বেশি নৌ অভিযান চালানো হয়েছে, এবং অধিকাংশই ক্যারিবীয় ও ল্যাটিন আমেরিকার সমুদ্রপথে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি অনুযায়ী, এই নৌযানগুলোকে “নাৰকো‑সন্ত্রাসী” হিসেবে অনুমান করা হয়েছিল। তবে নিন্দাকারীরা বলছেন — নৌযানের লোকজনকে বিচার বা গ্রেফতার না করে হত্যা করার সিদ্ধান্ত ন্যায্য নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রশাসনের এই ধরনের পদক্ষেপ গোপন-নিয়ন্ত্রনশীল যুদ্ধ নীতি ও extrajudicial killings-এর দিকে গঠন করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইনগত ন্যায্যতার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তবে প্রশাসন ও হেগসেথ দাবি করছেন — তারা শুধুই মাদকপাচার ও narco-cartel গুছিয়ে দেওয়া নেভিগেশন রুট বন্ধ করতে চেয়েছেন। করোলিন লেভিত, হোয়াইট হাউসের প্রবক্তা, এক বার মিডিয়াকে বলেছেন যে তারা চ্যালেঞ্জিং এই অপারেশন “self-defence” ও “international waters” এর আইন অনুযায়ী চালিয়েছে।
এ মুহূর্তে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, আইন ও মানবাধিকার সম্প্রদায় — সবার নজর কেবল একটি প্রশ্নের দিকে: এই হামলা — আইনি কি না, ন্যায়সই কি না? এবং ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে গৃহীত হবে?
এই ঘটনায় উদ্ধার, জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক আদালতের দৃষ্টিকোণ, এবং ভবিষ্যতে ন্যায়-প্রক্রিয়া কতটা নিশ্চিত হবে — সেটাই এখন বিশ্বের নজরদারি।




