যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন এক মোড় নিয়েছে, কারণ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে **প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কঠোর নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছেন। ভ্যান্স দাবি করছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত “নির্দেশনা সীমা ছাড়িয়ে গেছে” এবং এটি দক্ষ ও প্রতিভাবান বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় বাধা তৈরি করবে।

16 Nov 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি নতুন নিয়ম আনেছে, যার অংশ হিসেবে নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদনকারীদের জন্য $1 লাখ (প্রায় ১০০ হাজার ডলার) শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রশাসন বলেছে, এটি এমন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে একটি “নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা” যা কম মজুরিতে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে — কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এটি ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলোর জন্য দারুণ ঝুঁকি তৈরি করবে।
আইনি চ্যালেঞ্জ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল কোর্টে একযোগে বিভিন্ন ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা ও ধর্মীয় সংস্থা মামলা করেছে এবং তারা এই নতুন ফি-র সিদ্ধান্তকে “অবৈধ এবং সংবিধানবিরূদ্ধ” বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বলছে যে তাদের “Project Firewall” উদ্যোগ কর্মহীনতার বিরুদ্ধে ও শ্রমবাজারের সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে: কাজের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি, মজুরি নিয়মে কঠোরতা, এবং এইচ-১বি প্রোগ্রামের দুরব্যবহার রোধ।
ভ্যান্সের যুক্তি হলো: “এই ভিসা প্রোগ্রাম আসলে সেই ‘সুপার জিনিয়াস’দের জন্য করা হয়েছিল যারা উচ্চ মেধাসম্পন্ন; কিন্তু এখন অনেক কোম্পানি কম মজুরির হিসেব করে সাধারণ কাজেও এই ভিসার দুঃখজনক ব্যবহার করছে।” তাঁর মতে, এই নতুন ফি-র পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সংস্কার করা উচিত — যাতে দক্ষতা দানকারী বিদেশি কর্মীদের সুযোগ বজায় থাকে এবং অনুচিত নিয়োগ প্রতিরোধ করা যায়।
এছাড়া, এই বিতর্ক আরো গভীর হচ্ছে কারণ বাণিজ্য সচিবালয় এবং প্রযুক্তি শিল্প দাবি করছে যে H-1B কর্মীরা তাদের কোম্পানির জন্য অপরিহার্য। অনেক স্টার্টআপ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বলেছে, এই উচ্চ ফি তাদের জন্য অসহনীয়, বিশেষত নতুন কোম্পানির জন্য।
ভোট ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া দিক থেকেও বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। অভিবাসন নীতি ও অর্থনৈতিক সুযোগ নিয়ে তাদের সমর্থক এবং সমালোচকদের মধ্যে মতভেদের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনের সময় ভারী প্রভাব ফেলতে পারে কারণ কর্মসংস্থান, প্রতিভার আগমণ ও অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি গুরত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু।
সংক্ষেপে, ভ্যান্স ও ট্রাম্পের মধ্যে এইচ-১বি ভিসা ইস্যুতে মৌলিক বিরোধ স্পষ্ট হচ্ছে — এটি একদিকে আছে জাতীয় শ্রম নীতি এবং আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ, অন্যদিকে আছে অভিবাসী প্রতিভাবান জনশক্তি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রয়োজন। এই টানাপোড়েন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও অর্থনৈতিক নীতির নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।




