নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির অবিশ্বাস্য জয় শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রে পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরও প্রগতিশীল নেতা আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ বা এওসি প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থীতার পথে সুগম হতে পারেন।

11 Nov 2025 | Pic: Collected
রাজনৈতিক বিশ্লেষক পাবলো ও’হানার মতে, মামদানির জয়ের রহস্য হলো ‘দ্রুত পরিবর্তনের অনুভূতি তৈরি করা’। সাধারণ ভোটাররা শুধু কথায় নয়, বাস্তব কাজের মধ্যে পরিবর্তন দেখতে চান। তাই এই প্রচারণা ছিল ফলাফলের রাজনীতি—ভাষণের চেয়ে কাজের প্রতি জোর। তিনি ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এভাবেই মামদানির বামপন্থী রাজনীতি আবার সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে যখন জো বাইডেনের বিতর্ক সম্প্রচারিত হচ্ছিল, তখন থেকেই ডেমোক্র্যাট শিবির বুঝতে পারে, তাদের মূল সমস্যা হলো ‘গতি’র অভাব। বাইডেন ও কমলা হ্যারিস অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তনের প্রভাব ততটা দেখা যায়নি। ফলে হতাশ ভোটাররা বিকল্প হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিকে ঝুঁকছেন। ও’হানার মতে, আজকের ভোটাররা শান্তি নয়, তারা ধাক্কা দিতে চায়। তারা এমন কাউকে চায়, যে টেবিল উলটে দিতে পারে।
মামদানির প্রচারণা থেকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য তিনটি মূল শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে—
- তাৎক্ষণিক ফলাফল: নির্বাচনের পর ছয় মাসের মধ্যে তিনটি বড় প্রতিশ্রুতির বাস্তব ফল দেখাতে হবে।
- সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কার বার্তা: লম্বা বক্তৃতার চেয়ে সংক্ষিপ্ত, কার্যকর বার্তা ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলে।
- সুস্পষ্ট প্রতিপক্ষ নির্ধারণ: মামদানি যেমন বাড়িওয়ালা ও মূল্যবৃদ্ধিকারীদের দায়ী করেছেন, তেমনি এওসি-রও ‘খলনায়ক’ নির্ধারণ করে বাস্তব সমাধান দিতে হবে।
ও’হানার মতে, আজকের ভোটাররা অধৈর্য। যদি এওসি ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিতে পারেন, তবে তার জন্য প্রেসিডেন্ট পদে পথ সুগম হতে পারে। মামদানির জয় প্রমাণ করল, সঠিক পরিকল্পনা, বাস্তব প্রতিশ্রুতি এবং দ্রুত কাজের ফলে নির্বাচনেও বিশাল প্রভাব ফেলা সম্ভব।




