নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর, ২০২৫) হোয়াইট হাউসে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত বৈঠককে মামদানি “খুবই ফলপ্রসূ” বলে অভিহিত করেছেন। দুই নেতার মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও, তারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর মূল ভিত্তিতে একাধিক সাধারণ দৃষ্টিকোণ খুঁজে পেয়েছেন।

22 Nov 2025 | Pic: Collected
মিটিং শেষে সাংবাদিকদের সামনে, মামদানি বলেন যে তারা ভাড়া, গ্য্রোসারি দরের বৃদ্ধি, ইউটিলিটি খরচ, এবং জনগণকে শহর থেকে ড্রাইভ আউট করার ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক খেল নয় — “নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস করা এবং বাসস্থানকে আরও টেকসই করা” এমন লক্ষ্য ছিল যা উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্পও এই মিটিংয়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন কিছু বিষয় মিলেছি যা এমনকি আমি ভাবিনি…” এবং যোগ করেছেন, “যত বেশি তিনি সফল হবেন, আমি ততই খুশি হব।” তার মন্তব্য অনুসারে, পার্টি পার্থক্য তাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, বরং তারা একটি সাধারণ উদ্দেশ্য — একটি “দৃঢ় এবং নিরাপদ নিউইয়র্ক” গঠনে দেখতে পারছেন।
মামদানি ও তার দলের প্রাথমিক অ্যাজেন্ডাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা মিটিংয়ে বিশেষ গুরুত্ব পায়:
- স্থিতিশীল ভাড়া: ভাড়া নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়া বৃদ্ধি না করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
- সার্বজনীন শিশু যত্ন: শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বা সাশ্রয়ী চাইল্ডকেয়ার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
- সস্তা আবাসন: হাজারো সাশ্রয়ী বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। (মামদানির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ)
- নগর-মালিকানাধীন মুদি দোকান: শহরের প্রতিটি বরোতে এমন একটি দোকান চালুর প্রস্তাব, যেখানে গ্রাহকরা পাইকারি মূল্যে জিনিসপত্র পেতে পারেন। (মামদানির পরিকল্পনায় উল্লিখিত)
- বিনা ভাড়ায় বাস ভ্রমণ: শহরের বাস সেবা বিনামূল্য করার উদ্যোগ রয়েছে।
এইসব পরিকল্পনা ট্রাম্পের দৃষ্টিকোণ থেকেও সমর্থন পেয়েছে: বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন যে ভাড়া, গৃহনির্মাণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে মামদানির ধারণা অনেকাংশে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গার সাথে মিলে যায়।
তবে এই আলোচনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একাধিক চ্যালেঞ্জও দেখছেন:
- বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: মামদানির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন সহজ হবে কি না, সেটি বড় প্রশ্ন। স্থিতিশীল ভাড়া ও সস্তা মুদিপণির দোকান প্রতিষ্ঠায় অর্থায়ন ও প্রশাসনিক বাধা থাকতে পারে।
- লক্ষ্যগোলের পার্থক্য: যদিও দুই নেতা মিলের কথা বলেছেন, কিন্তু তাঁদের রাজনৈতিক উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ভিন্ন হতে পারে। বিশেষত যেসব যুক্তরাজ্য বা সংরক্ষক ভাববাদ থেকে দেখেন, তারা বলছেন যে এই মিটিং শুধুমাত্র শোরুপোরাজন বা শোচেয়ার ছাপানোর জন্য হতে পারে।
- ভোটার প্রতীক্ষা: মামদানির সাধারণ মানুষের দিকে মনোনিবেশের নীতি তার নির্বাচনী ভিত্তি, তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি সত্যিই মেটাতে পারবেন কি তাঁর উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতিগুলো। বিশেষ করে যেসব প্রতিশ্রুতি দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টার দাবি রাখে।
সার্বিকভাবে, ট্রাম্প-মামদানি বৈঠক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি মহত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা যেতে পারে: উভয়ে পার্থক্য সত্ত্বেও “নিউইয়র্কবাসীর জন্য সাশ্রয়ী ও নিরাপদ শহর” গঠনের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদি তারা এই প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকরভাবে রূপায়িত করতে পারে, তাহলে এটি শুধু একটি রাজনৈতিক মোমেন্ট নয় — বরং নিউইয়র্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা হতে পারে।




