যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার অ্যাডমিরাল অ্যালভিন হলসি তার নির্ধারিত অবসরের সময়ের দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেছেন, এমনটাই জানা গেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে; হলসি ডান্দিপটিকভাবে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের দক্ষিণ কমান্ড (U.S. Southern Command)-এর দায়িত্বে ছিলেন এবং সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে টানটান উত্তেজনার সময় এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।

15 Dec 2025 | Pic: Collected
বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে খবর পাওয়া গেছে যে, হলসির পদত্যাগের পেছনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষ থেকে চাপ ছিল, এবং হেগসেথ সামরিক কৌশল ও অভিযান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছিলেন; বিশেষ করে কারিবিয়ান সাগরে সন্দেহভাজন ড্রাগ পাচারকারী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা পরিচালনা ও তা নিয়ে আইনগত ও কৌশলগত মতপার্থক্য ছিল তাদের মধ্যে।
হলসি ৩৭ বছরের দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারের পর আগেই অবসরে যাওয়ার ঘোষণা শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে দেওয়ার আগে অক্টোবরের মাঝামাঝি (১৬ অক্টোবর) নিজ পরিচিতদের জানিয়েছিলেন যে তিনি ডিসেম্বরের পূর্বেই দায়িত্ব ছাড়বেন। অবসরের সময়ের আগেই পদত্যাগ করার ব্যাখ্যা তিনি সরাসরি জানাননি, কিন্তু তার অবসর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি তার ক্যারিয়ার নিয়ে গর্ব ও শান্তভাব প্রকাশ করেন এবং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো।”
হলসির পদত্যাগ নিয়ে সামরিক বিশ্লেষক ও পেন্টাগন পরিস্থিতি বলেছেন যে উভয়ের মধ্যে মূলত সামরিক পরিচালনা, অভিযানের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে মতভেদ গhelp হয়েছে। এমনকি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে হলসি নিজেও জানিয়েছেন যে তার পদত্যাগ সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান বা বাস্তব সময়ের পরিস্থিতি দ্বারা চালিত হয়নি, বরং এটি নিজের পছন্দে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
এই পদত্যাগকে পেন্টাগনের বর্তমান নেতৃত্বাধীন মোড় পরিবর্তনের সর্বশেষ ধাপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও বিদেশে সেনা পরিচালনা নিয়ে নতুনভাবে ভূমিকা নিচ্ছে; বিশেষত ড্রাগ সংঘর্ষ ও দক্ষিণ আমেরিকায় ভেনেজুয়েলা সংকট-কে কেন্দ্র করে।
হলসির নেতৃত্বাধীন সময়ে দক্ষিণ কমান্ডের অধীনে নৌ অভিযানগুলোর সময় অন্তত ৮৭ জন মারা গেছেন, যা আইনগত ও মানবিক দিক থেকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং কংগ্রেস ও মানবাধিকার গোষ্ঠীরও নজরে এসেছে। অনেকেই তর্ক করছেন যে এই অভিযানগুলোর আইনগত বৈধতা ও কৃত্যের নৈতিকতা নিয়ে যথেষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান হয়নি, এবং এই বিষয়েই হতভম্ব মনোভাব পেমান্টাগনের মধ্যেও দেখা গেছে। যদিও হলসি নিজেই সামরিক তদন্তে উপস্থিত হন এবং তার মত অভিমত প্রকাশ করেন, তবুও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্ব তার সঙ্গে একমত ছিল না।
হলসির অবসর অনুষ্ঠানে তার নেতৃত্বের মূল্যায়ন করা হয় এবং তাকে সম্মান জানানো হয়; নতুন নেতৃত্ব হিসেবে Air Force Lt. Gen. Evan Pettus দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন, যিনি এই কমান্ডের নতুন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে যে নতুন নেতৃত্ব আগামী দিনে দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও জোরদার করবে, যদিও অ্যাডমিরালের আগেই সরে যাওয়ার ঘটনা সামরিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
এই পদত্যাগের ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ও সামরিক সম্পর্কগুলোর ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে, বিশেষত আমেরিকার দক্ষিণ আমেরিকায় কৌশল ও সম্পর্ক ব্যবস্থায় ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও সমঝোতার ক্ষেত্রে। অনেক বিশ্লেষক এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক নীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের প্রতিফলন হিসেবেও দেখছেন।
সম্প্রতি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত মিডিয়া ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে ইঙ্গিত করে; যেখানে ভবিষ্যতের জন্য আমেরিকার কৌশল, নেতৃত্বের অবস্থা এবং বিদেশ নীতিতে কতটা পরিবর্তন আসতে পারে তা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিশেষ ফোকাসে রয়েছে।




