অ্যাটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের অনেক বেশি ঝড়ীয় গতি নিয়ে এই মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘জোড়া হারিকেন’, অর্থাৎ হারিকেন লোরেনা ও হারিকেন কিকো মেক্সিকো এবং আমেরিকার দিকে ধেয়ে আসছে। প্রথমত, ট্রপিকাল স্টর্ম লোরেনা ইতিমধ্যে শক্তিধর ঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি কাবো সান লুকাশ, মেক্সিকোর কাছাকাছি পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের উপর অবস্থান করছে। এটি প্রতিদিন ১৪ মাইল প্রতি ঘণ্টার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে, এবং এই সপ্তাহে বজা ক্যালিফোর্নিয়া ও সোনোরা অঞ্চলগুলোতে মৌসুমি ভারী বর্ষণ ঘটাতে পারে, যা সূত্রবদ্ধ ফ্ল্যাশ প্লাডিং ও মাটি স্লাইডের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। লোরেনার কারণে বজা ক্যালিফোর্নিয়ার বেশ কিছু অংশে ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ জারি করা হয়েছে, যেখানে একাধিক জেলায় ৩৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

4 September 2025 | Pic: Collected
একদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের অপর প্রান্তে অবস্থান করা হারিকেন কিকো ইতিমধ্যে ক্যাটাগরি 2 থেকে বেড়ে ক্যাটাগরি 4-এ পরিণত হয়েছে—এর গতি এখন আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই হারিকেন হাওয়াই থেকে প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠেছে। যদিও বর্তমানে কোনো সরাসরি ভূমি সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না, এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, ও হাওয়াইয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে।
এই জোড়া হারিকেনের উপস্থিতি শুধুমাত্র এক দেশকে নয়, বরং পুরো মধ্য ও উত্তর আমেরিকার প্রশান্ত উপকূলকে সতর্ক করে দিয়েছে। মেক্সিকোর বজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলে শাসন প্রশাসন ইতোমধ্যেই evakuation (উদ্ধার) ও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, বিশেষ করে অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো, লোরেনা থেকে আসা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে মৌসুমীয় বৃষ্টিপাত ও বন্যায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকির মুখে। সেখানে এক থেকে দুই ইঞ্চি পর্যন্ত অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যদিও হুমকিটি তুলনামূলক কম, তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া দপ্তর সতর্কতা জারি করেছে।
এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—সামুদ্রিক ‘জোড়া সাইক্লোন’ তৈরি হলে এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই বিস্তৃত হয়, এবং প্রস্তুতি নেয়া না হলে স্রেফ হাওয়া ও বৃষ্টির স্তরেই নয়, পুরো এলাকার বেঁচে থাকার মধ্যে মাটির ভাঙন থেকে সরে আসা পর্যন্ত ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে, ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (Miami) ও স্থানীয় আবহাওয়া অফিসগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘূর্ণিঝড় দুটির গতি ও পরিণতির প্রতি লক্ষ রাখতে হবে, কারণ এর মাধ্যমে খুব দ্রুত পরিকল্পনা, উদ্ধার ও সতর্কতা কার্যক্রম আদায়ে পরিবর্তন আনতে হবে।
শেষ পর্যন্ত, এই খবর প্রমাণ করছে—জোড়া হারিকেনের ধেয়ে আসা কেবল গতিপথ বা গতি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি মানসিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত। মেক্সিকো থেকে আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম, এমনকি হাওয়াই পর্যন্ত—সব জায়গায় সজাগ থাকা জরুরি। কারণ লোরেনা ও কিকো একই সময়ে আঘাত করলে, একের পরে আরেক বার্তা বিরুদ্ধে প্রস্তুতি গ্রহণের আগেই বিপদে নিয়ত হতে পারে।
উদ্দেশ্য: এই আর্টিকেলটি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাঠককে যেসব অঞ্চল ঝুঁকিতে রয়েছে, সেই বিষয়ে তথ্য-আশ্চর্য ও সহজপাঠ্য ভাষায় পরিচিত করানো।




