নিউইয়র্ক সিটিতে 34th Street‑Penn Station সাবওয়ে স্টেশনেই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে—সোমবার সকাল ভীড়ের সময় প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে এক নবজাতক বালিকা ঢাকা কম্বলভর্তি রেখে ফেলা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পরে মায়ের ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, শিশুটি আবর্জনা নয়, করল তার নড়াচড়া ও কান্নার শব্দে স্থানীয় কমিউটাররা দ্রুত সতর্ক হয়ে পুলিশে খবর দেয়। শিশুটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ‘স্থিতিশীল’ অবস্থায় রয়েছেন।

23 Oct 2025 | Pic: Collected
পুলিশি সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ক্যামেরায় এক মাওয়া দেখা গেছে যে একটি মোটা কম্বলে একটি জিনিস-বস্তুর মতো কিছু এক হাতে ধরে ছদ্মবেশে স্টেশনে ঢুকছেন। সেই ভিডিওর সাহায্যে সমাজের সহযোগিতায় ওই মায়ের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিউইয়র্ক সিটির ট্রানজিট অফিসার এই ঘটনাকে “মিরাকল অন ৩৪থ স্ট্রিট” বলেন কারণ এত ভিড়ের মধ্যে শিশুটি অক্ষত পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্কের আইন মতে, ‘Safe Haven Law’ অনুযায়ী ৩০ দিনের কম বয়সি নবজাতক নির্ধারিত হাসপাতালে, ফায়ার স্টেশনে বা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে নিরাপদে দেওয়া হলে মা-বাবা বিচারভুক্ত হতে পারেন না। তবে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে এমনভাবে বালিকা ফেলা হলে তা আইন অনুযায়ী ‘শিশু উপেক্ষা ও ঝুঁকিতে রাখা’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই ঘটনায় যাত্রী ও স্টেশনের কর্মীরা বলেন, সকালের সময় এমন ঘটনা খুবই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে—ভরা স্টেশনে কেউ কথা শুনে ব্যস্ত, আবার কেউ কিন্তু সময় মতো দায়িত্বে নন। স্থানীয় এক যাত্রী জানান, “আমি শুধু কম্বলভর্তি একটা বস্তা দেখেছিলাম, ভাবিনি তার ভেতরে একটি জীবন্ত শিশু থাকবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় শহরে যেসব স্টেশনে নিরাপত্তা ও সামাজিক সেবা কম পৌঁছায়, সেখানে এমন ঘটনা এক ধরনের সামাজিক সংকেতও—যেখানে মাতা-অভিভাবকরা যৌক্তিক বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেন না বা তারািষ্ঠ নয় এমন অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে রয়েছে এবং পুলিশ ও শিশু সেবা সংস্থা মর Administration for Children’s Services (ACS)-র তত্ত্বাবধানে রয়েছে। মায়ের খোঁজে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক কাজে নিয়োজিত সংস্থাগুলোও কাজ করছে। এদিকে, পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত মায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে “শিশু উপেক্ষা” ও “ঝুঁকিতে রাখা” অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনা শুধু একটি অপরাধভিত্তিক নিউজ নয়; এটি শহুরে নিরাপত্তা, নারী-সেবা ও শিশুবিষয়ক নীতির দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যখন একটি শিশু এত জনবহুল ট্রানজিট প্ল্যাটফর্মে ফেলা হয়, তখন প্রশ্ন উঠে—আমরা কি সামাজিক নিরাপত্তা-নেটওয়ার্ক যথেষ্ট রূপে গঠন করেছি? কোথায় ছিল মেয়েটির মায়ের বিকল্প?
আমরা দ্রুত সময়ে এমন পরিস্থিতি যাতে না হয়, তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ও সামাজিক সংস্থাগুলোকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে, সাধারণ মানুষকে একই সাথে সচেতন হতে হবে যাতে ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা হটলাইন নম্বরে খবর দেওয়া যায়।
সারাংশভাবে বলা যায়, নিউইয়র্কের ব্যস্ততম সাবওয়ে স্টেশনে এক নিষ্পাপ শিশুকে ফেলে যাওয়া খবর আমাদের শোনাচ্ছে একটি গোপন সামাজিক সংকেত—যেখানে শিশুর নিরাপত্তা, মায়ের সামাজিক-মানসিক অবস্থা ও নগর সেবা-ব্যবস্থার দুর্বলতা একসঙ্গে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এখন দেখতে হবে, আইন প্রয়োগ প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠান কীভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করা যায় কি না।



