২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন ১,৯৩০ জন মার্কিন নাগরিক, যা ২০০৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই সংখ্যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২% বেশি।

Source: Ittefaq | 24 May 2025 | Pic: Collected
এই বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা। অনেক মার্কিনি নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার জন্য যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্বের আবেদন করছেন।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই প্রবণতা বিশেষ করে পেশাজীবী এবং এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালায় উদ্বিগ্ন হয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ট্রাম্পের সমালোচনা এবং “উইক” সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ফলে অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য আবেদন করছেন। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন শিক্ষার্থীদের ব্রিটিশ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ৯.৬% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাজ্যে আসা অনেক মার্কিনি এখন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য হয়েছেন, যা এই বৃদ্ধির আরেকটি কারণ।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাজ্যের সরকার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনছে। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত, ২৬৯,৬২১ জনকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। তবে, নতুন নীতিমালায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে ১০ বছরে বাড়ানো হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলো অভিবাসীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক মার্কিনি যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এই প্রবণতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশ্বের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভিবাসন নীতির পরিবর্তন আমাদের অভিবাসন পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, অভিবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো বিবেচনা করা জরুরি।




