
24 Oct 2025 | Pic: Collected
ক্রিস্টেনসেন (Brent T. Christensen) নাম পাওয়া এই যুক্তরাষ্ট্রীয় কূটনীতিককে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, যদি তিনি দায়িত্ব নেন, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কয়েকটি বড় পদক্ষেপ নেবেন। ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, প্রথমত তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বাড়াবেন, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে।
তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দ্রুত এগোচ্ছে। আমি এখানে এসে এমন একটি ভূমিকা রাখতে চাই যেখানে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের মাধ্যমে একে- অপরের সুযোগ থেকে লাভবান হবে।” দ্বিতীয়ত, তিনি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মনোনিবেশ করবেন। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব তৈরিতে সহায়ক হবেন—এভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ‘সাপ্লাই চেইন’ ও রপ্তানির নতুন দরজা খুলতে পারবে। তৃতীয়ত, তিনি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সঙ্গতি বাড়াবেন—বাংলাদেশ-মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগ চালু হবে বলেও উল্লেখ করেছেন।
ক্রিস্টেনসেনের মতে, “এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে শুধু কূটনৈতিক ও সামরিক মানে নয়, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত অংশীদারিত্ব বিবেচনায় নিয়ে দেখা দরকার।” বর্তমানে তার মনোনয়ন যুক্তরাষ্ট্র সেনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, এবং অনুমোদন মিললে তিনি দ্রুত ঢাকায় আসবেন। বাংলাদেশ সরকারের এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দূতের এই মনোভাব আমাদের কাছে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে—বিশেষ করে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে।” তবে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করছেন—“মনোনয়ন অনুমোদনের পরই কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে হবে, শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয়”। সুতরাং, যদি ক্রিস্টেনসেন দায়িত্ব নেন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।




