যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে লক্ষ্য করে নতুনভাবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে। মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বাড়ানো। ওয়াশিংটন লক্ষ্য করছে, রাশিয়ার ব্যাংকিং খাত ও তেল শিল্পে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মস্কোর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব।

26 Oct 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনকে সহায়তা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবনায় রাশিয়ার সম্পদ কিয়েভের প্রতিরক্ষা তহবিলে ব্যবহার করা যায় কিনা তা সমর্থন করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক ও মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়েও ওয়াশিংটন ভাবছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবে এবং যুদ্ধের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার তিন বছরের যুদ্ধ শেষ করা তার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তিনি বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত শান্তিচুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা দেখা যায়নি, আমি পুতিনের সঙ্গে আর দেখা করব না। সময় নষ্ট করতে চাই না।” ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, আগস্টে আলাস্কায় অনুষ্ঠিত তাদের বৈঠকে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি পুনরায় বৈঠক করতে অনিচ্ছুক।
ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে রাশিয়ার তেল জায়ান্ট লুকওয়েল (Lukoil) এবং রসনেফট (Rosneft) এর ওপর নিষেধাজ্ঞা। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বিশেষ করে চীন ও ভারত বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে শুরু করে। এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও রাশিয়ার অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
রাশিয়া অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। পুতিন জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, যদি রাশিয়া শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর না হয়, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উপর কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে চায়। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান দ্রুত আনা সম্ভব হতে পারে, তবে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে এই পদক্ষেপের ফলাফলের দিকে, এবং রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া যুদ্ধ ও শান্তি উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়ার সম্পদ ব্যবহার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি—সব মিলিয়ে এটি একটি জটিল কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, এবং এখন দেখার বিষয়, রাশিয়া শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হয় কি না।



