যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যে প্রথমবারের মতো স্থানীয়ভাবে চিকনগুনিয়া ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নাসাউ কাউন্টির লং আইল্যান্ড এলাকায় একজন বাসিন্দার শরীরে ভাইরাসটি মশার কামড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ। এটি ২০১৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম স্থানীয় সংক্রমণ।
নিউ ইয়র্ক স্টেট হেলথ কমিশনার ড. জেমস ম্যাকডোনাল্ড এক বিবৃতিতে বলেন, “নিউ ইয়র্কের তাপমাত্রা কম হওয়ার কারণে ভাইরাসটি ছড়ানোর ঝুঁকি এখন খুবই কম। তবে আমরা প্রত্যেক পরিবারের উদ্দেশে বলছি মশার কামড় থেকে বাঁচতে সহজ কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলতে।”

16 Oct 2025 | Pic: Collected
চিকনগুনিয়া ভাইরাস Aedes albopictus মশার মাধ্যমে ছড়ায়। নিউ ইয়র্কে এই প্রজাতির মশা পাওয়া গেলেও সংক্রামিত মশার সুনির্দিষ্ট উৎস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
চিকনগুনিয়া ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- জ্বর
- অস্থিসন্ধিতে ব্যথা
- মাথাব্যথা
- পেশিতে ব্যথা
- চর্মরোগ
সাধারণত, আক্রান্ত ব্যক্তি এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধির ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC) চিকনগুনিয়া ভাইরাসের বিস্তার রোধে মশার কামড় থেকে বাঁচার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মশারি ব্যবহার, মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি।
বিশ্বব্যাপী চিকনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ৩১৭,০০০ এরও বেশি সংক্রমণ ঘটেছে। বিশেষ করে চীন, ভারত, ব্রাজিল ও মেক্সিকোতে সংক্রমণের হার বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত বিদেশ থেকে আগতদের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে এবার স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ ঘটায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, যদি মশাবাহিত এই ভাইরাসের বিস্তার বাড়ে, তবে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে, নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মশার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, মশারি বিতরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম চলছে।
নিউ ইয়র্কবাসীকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ভোর বেলা মশার কামড়ের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে শীতকাল আসায় মশার কার্যকলাপ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



