ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে এমন সমঝোতার ওপর কাজ করছে যা দেশকে “দুর্বল না করে শক্তিশালী করবে।” তিনি এই কথা বলেন এমন এক সময়ে, যখন জেনেভায় শান্তি আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন “refined peace framework” (নবায়িত শান্তি কাঠামো) প্রস্তাব দিয়েছে।

24 Nov 2025 | Pic: Collected
জেলেনস্কি ইউরোপিয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা কেবল ইতিহাসের নীরব পর্যবেক্ষক হিসেবে থেকে যায়নি — “হিংসা যার দ্বারা শুরু হয়েছিল, তার ফলস্বরূপ সীমান্ত নিষ্পত্তি চুক্তিতে বলবৎ হওয়া উচিত নয়।” তিনি আরও বলেছিলেন যে, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র যে সমঝোতার পথ বেছে নিচ্ছে, তা প্রাক-গৃহযুদ্ধ বা সাময়িক শান্তি কল্পনায় বেঁধে রাখে না; বরং এটি দীর্ঘ মেয়াদী এবং ন্যায্য শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
প্রেসিডেন্ট জার্মানির মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের সাথে এই আলোচনায়, ইউক্রেনের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে — রাশিয়া-আসক্ত ভূখণ্ডের গুণগত স্বীকৃতি হবে না, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কপালে বাঁধ দেয়া হবে না, এবং ভবিষ্যতে যে কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক জোটে যোগদানের অধিকার সীমাবদ্ধ করা যাবে না।
জেলেনস্কি বিশেষভাবে রুশ অবমুক্তকৃত অর্থের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর কথায়, “রাশিয়া এই যুদ্ধের জন্য দায়ী, এবং তাদের মুঠোফোন বা জম frozen থাকা বার্ষিক সম্পদগুলি ব্যবহারে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি ইউরোপিয় নেতাদেরকে অনুরোধ করেছেন, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখুক এবং সহজ পথ বেছে না নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে সমর্থন করতে রাখুক।
এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে একটি ২৮-পয়েন্ট পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে যা কিছু বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়াপন্থী দৃষ্টিভঙ্গা সমর্থন করে। ইউক্রেন এবং ইউরোপ নেতারা ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবটিকে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে সংশোধন করার প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে ইউক্রেনের সার্বভৌমতা ও নিরাপত্তার স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
জেলেনস্কি বলেন, “এখন আমরা এক অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ মুহূর্তে আছি।” তিনি প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব সৃষ্টি করেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর ভার অনুভব করছেন। বিশেষ করে, মাধ্যমিকভাবে “শীতকালীন চাপ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক চাপে” তাদের সিদ্ধান্তগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
ইউরোপীয় নেতারা, বিশেষ করে ইউরোপীয় পরিষদের নেতা আন্তোনিও কোস্টা, এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে “ইউক্রেনকে ভবিষ্যতের অংশীদার হিসেবে রাখতে হবে” — শুধুমাত্র যুদ্ধ শেষে নয়, দীর্ঘমেয়াদে।
একই সময়ে, চেক প্রজনত রাষ্ট্রপতি পেত্র পাভেল সতর্ক করেছেন যে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তিনি বিশেষ করে ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির মিসষ্টেপসের কথা উল্লেখ করেছেন — যেখানে ইউরোপ অংশ নিয়ে ইউক্রেন ও অন্যান্য দেশের অতীত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এর ফল প্রত্যাশিত শান্তি আনে নি। The Guardian
যদিও এখনো চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির প্রস্তাবের নিয়মিত পাঠ্য প্রকাশ করা হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন এক “নবায়িত কাঠামোতে” কাজ করছে — যা মূল নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও দৃষ্টান্তমূলক শর্তাবলীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার উদ্দেশ্য রাখে। The Guardian
সর্বোপরি, জেলেনস্কির বক্তব্য স্পষ্ট — তারা এমন সমঝোতা চায় যা যুদ্ধের শোষণকে শেষ করবে, কিন্তু দেশের সার্বভৌমতা ও নিরাপত্তাকে না কমিয়ে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় অংশীদারদের কূটনৈতিক সমন্বয় এক নতুন চূড়ান্ত শান্তি গড়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনাকে দৃষ্টিগোচর করছে।




