যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের স্বপ্ন দেখা লাখো বাংলাদেশির জন্য এসেছে হতাশার খবর। ২০২৬ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির আবেদন প্রক্রিয়া থেকেও বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নবপ্রকাশিত নির্দেশনায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশকে ডিভি লটারির বাইরে রাখা হয়েছে। বাদ পড়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ আরও কয়েকটি দেশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে এসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এ দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ডিভি লটারিতে আবেদন সুযোগ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

23 Oct 2025 | Pic: Collected
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এশিয়ার ৩১টি দেশ ও অঞ্চল ২০২৬ সালের ডিভি লটারিতে আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, ভুটান, ব্রুনাই, মিয়ানমার (বার্মা), কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, ইসরাইল, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, লাওস, লেবানন, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, উত্তর কোরিয়া, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, পূর্ব তিমুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
ডিভি লটারি কীভাবে কাজ করে?
ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি অভিবাসন কর্মসূচি, যা কম হারে অভিবাসন হয়ে থাকে এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করে। প্রতিবছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ পান।
অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে বিনামূল্যে আবেদন করতে পারেন, এবং নির্দিষ্ট সময় শেষে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীরা অভিবাসন ভিসার সুযোগ পান। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভিসা সাক্ষাৎকার, নথি যাচাই, এবং শর্তপূরণের পরেই কেবল স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অনুমতি মেলে।
কেন বাদ বাংলাদেশ?
বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক অভিবাসী পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, যে দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করেছে, তারা ডিভি লটারির আওতা থেকে বাদ পড়ে। এই কারণেই কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের আবেদনকারীরা এই সুযোগ পাচ্ছেন না।
হতাশ তরুণ প্রজন্ম
দেশের অনেক তরুণ-তরুণী যারা পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশি ডিভি লটারির মাধ্যমে আমেরিকায় নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের কাছে এটি এক বড় ধাক্কা। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন বলেন, “প্রতি বছর ভেবেছি হয়তো এবার সুযোগ আসবে, কিন্তু এবারও বাদ পড়লাম শুনে খুব খারাপ লাগছে। আমেরিকায় পড়াশোনা আর কাজের স্বপ্নটা যেন আরও দূরে চলে গেল।”
ভবিষ্যতে কি সুযোগ আসবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনের হার যদি ভবিষ্যতে কমে, তাহলে আবারও ডিভি লটারির তালিকায় ফেরা সম্ভব। এর আগে ১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশিরা নিয়মিতভাবে ডিভি প্রোগ্রামে অংশ নিতে পেরেছিল।
তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা, কর্মসংস্থান ভিসা বা বিনিয়োগভিত্তিক ভিসার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে।




