যুক্তরাষ্ট্রের Donald Trump প্রশাসন ইমিগ্রেশন নীতিতে এক নতুন ধাপ সামনে নিয়ে এসেছে, যেখানে দেশের অভিবাসী-কর্মীদের জন্য কর্মঅনুমতির নিয়ম বড়ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ নিজস্ব নীতিতে U.S. Department of Homeland Security (DHS) ঘোষণা করেছে যে আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ থেকে তারা কাজের অনুমতির (Employment Authorization Documents বা EADs) স্বয়ংক্রিয় নবায়ন বা এক্সটেনশন আর অনুমোদন করবে না, যা পূর্বের প্রশাসনের অধীনে ছিল। এর অর্থ হলো—ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট অভিবাসী-কর্মী যারা কর্মঅনুমতির নবায়ন দাখিল করবেন, তাদের আর পুরনো নিয়ম অনুসারে অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে না। নবায়নের জন্য তারা এবার পূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা যাচাইবিধি পুরোপুরি পূরণ করতে হবে।
এই পরিবর্তনের মূল যুক্তি নিরাপত্তা ও ‘ভোটার ও কর্মবাজারের স্বার্থ’ রক্ষার দিক থেকে আনা হয়েছে। DHS বলেছে, তারা বিশ্বাস করে যে স্বয়ংক্রিয় এক্সটেনশন কর্মপ্রক্রিয়াকে সহজ করেছিল কিন্তু তা যাচাইবিধিকে দুর্বল করেছে। উদাহরণ হিসেবে দেখা গেছে, লাইসেন্স বা অনুমতি নবায়নের সময় দীর্ঘ দেরি হওয়ায় কর্মরত কয়েকজন পার্শ্ববর্তী দেশে পরিচিত নন-নাগরিক কর্মীরা কাজ করছেন এমন বিষয় উঠেছে। এই ধরনের বিষয় নিয়ন্ত্রণে এনে DHS বলেছে, “কাজ করা একটি অধিকার নয়, এটি সুযোগ। এবং অনুমোদন পেতে হলে আমরা আরো শক্ত নিরাপত্তা ও যাচাই চাই।”

1 Nov 2025 | Pic: Collected
কী পরিবর্তন হলো, তা সহজভাবে বলা যায়—আগে হাউজ এইচ-৪ (H-4) স্বামী/স্ত্রীর অনুমতি, স্থায়ী নিবাস (Adjustment of Status) আবেদনকারীদের অনুমতি ইত্যাদিতে ৫৪০ দিনের (১৮ মাস) স্বয়ংক্রিয় এক্সটেনশন প্রদানের নিয়ম ছিল। এখন সেই নিয়ম বাতিল করে দেওয়া হয়েছে; ৩০ অক্টোবর বা তার পর নবায়ন দাখিল করা হলে সেই এক্সটেনশন আর পাওয়া যাবে না। অতীতে ১৮০ দিন এক্সটেনশন ছিল পরে তা ৫৪০ দিন করা হয়েছিল।
এর ফলে অনেক অভিবাসী-কর্মী, বিশেষ করে যাঁরা H-4 স্পাউস বা গ্রীন কার্ড প্রক্রিয়াধীন ব্যক্তিরা, বা আগ্রাসী শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে কাজি করছেন, তাঁদের জন্য এখন ঝুঁকি বেড়ে গেছে। যদি নবায়নের আবেদন দাখিল করেন কিন্তু নতুন অনুমোদন না আসে, তাহলেও কর্মরত থাকা সম্ভব হবে? না—বৈধ অনুমোদনের কার্ড শেষ হলেই তারা কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হবেন বলেই আইনজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
নীতির পর Employer-রাও নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন শুধুই নবায়ন দাখিল করলেই চলবে না—নতুন অনুমোদন মেপূর্বক কর্মী অব্যাহত রাখতে হবে। না হলে তারা ভঙ্গ হয়ে যেতে পারে এবং আইনগত দায়বদ্ধ হতে পারে। অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন আইনজ্ঞদের মতে এই সিদ্ধান্ত কর্মবাজারে ও কোম্পানির নিয়োগনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিবর্তন শুধুই প্রশাসনিক নয়; এটি অভিবাসন ও শ্রমনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মুখোশকে নতুন আলোকে উপস্থাপন করছে। অনেকের মতে, এটি একটি সংকেত যে প্রশাসন অভিবাসীদের জন্য কাজের সুযোগ সীমিত করার দিকেই যাচ্ছে এবং অভিবাসী-কর্মীদের অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তবে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে—এই পদক্ষেপ সময়োপযোগী এবং নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের খাতিরে প্রয়োজনীয়।
উপসংহারে বলা যায়—এই রূপান্তর থেকে পরের ধাপ হয়তো আরও বড় হবে। কারণ কাজের অনুমতির নিয়ম পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে অভিবাসীরা নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাওয়ায় বাধ্য হবে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, এবং কোম্পানিগুলো কর্মী সংকটে পড়তে পারে। এই পরিবর্তন শুধু কাজের অনুমতির বিষয় নয়—এটি একটি সামাজিক ও নীতিগত সংকটের প্রতিফলন।




