মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে, এবং এটি চলতি মাসে দ্বিতীয়বার—একই অঞ্চলে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ হওয়ার ঘটনা হিসেবে ধরা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যু তৈরি করেছে।

21 Dec 2025 | Pic: Collected
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (Department of Homeland Security) এবং কোস্ট গার্ড-এর নেতৃত্বে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই অভিযান চালানো হয়, এবং ক্যারিবীয় সাগর-এর ভেনেজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ‘সেঞ্চুরিজ (Centuries)’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করা হয়। এই পদক্ষেপটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কার্যকর করা “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক অবরোধ (total & complete blockade)”–এর অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজগুলোর চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা তেলের অবৈধ পরিবহন বন্ধ করা।
এই ‘সেঞ্চুরিজ’ নামে জাহাজটি পানামার পতাকাবাহী হিসেবে চলমান ছিল এবং ভেনেজুয়েলার কোনও বন্দরে থেকে সূত্রে জানা অনুযায়ী প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে চীন বা অন্যান্য গন্তব্যে যাত্রা করতে ছিল—যদিও তেলের প্রকৃত গন্তব্য বা মালিকানা নিয়ে সরকারি নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিযান সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলেন, “যে তেল বিতরণের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা-সম্পর্কিত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সেই অবৈধ কর্মকান্ড আমরা বন্ধ করব।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যাঁরা আইন অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘স্কিপার (Skipper)’ নামের আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছিল, যা ‘অবরোধ’ ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল বলে সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ট্যাংকারটি তেল পরিবহনে নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ও কার্যক্রমের কারণে আগেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
এই সর্বশেষ জাহাজ জব্দের ঘটনায় ভেনেজুয়েলা সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানিয়েছে, এবং একে ‘চুরি ও অপহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবৈধভাবে জাহাজ ছিনিয়ে নিয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে *এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহি করতে হবে এবং বিষয়টি তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করবে।”
কারাকাসের দাবি, যদিও জাহাজটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল, তবু আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এর ওপর কোনো অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না এবং তাদের মতে এখানে মূল উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা—যা সত্ত্বেও মার্কিন প্রশাসন এতে ব্যক্তিগত ভাবে ‘অবৈধ তেল বাণিজ্য ও মাদক পাচারের সাথে যুক্ত নেটওয়ার্ক’-এর অংশ হিসেবে অবস্থান করছে বলে দাবি করছে।
এই দ্বিতীয় জাহাজ জব্দ করার ঘটনা ভেনেজুয়েলার সরকার ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ২০১৯ সাল থেকে চাপ বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিচ্ছে, এবং ট্যাংকারগুলোকে আটক করা এরই ধারাবাহিক কার্যক্রম হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের একাধিক প্রমাণিত বিশাল তেল মজুদের দেশে অন্যতম, তার রপ্তানি ও সরবরাহ অবরোধের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা ও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে, বিশেষত যখন ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই ইস্যু উত্থাপন করার ঘোষণা করেছে—এতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার পর্যায় আরও আগানোর সুযোগ রয়েছে।




