যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজা উপত্যকা। মঙ্গলবার ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে প্রাণঘাতী বোমা হামলা চালায়, যাতে কমপক্ষে ৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৫ জন আহত হন। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল গাজার উত্তরাঞ্চলীয় গাজা সিটি এবং দক্ষিণের খান ইউনিস এলাকা। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

29 Oct 2025 | Pic: Collected
অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতেও যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তবে চুক্তির মূল কাঠামো এখনও বহাল রয়েছে। ভ্যান্স আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি বহাল থাকা মানে এই নয় যে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে না। গাজার ভেতরে হামাস বা অন্য কেউ ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, আর ইসরায়েল এর জবাব দিচ্ছে। তবে এর মধ্যেও শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।”
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলায় প্রায় ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েল মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করছে—তাদের এই হামলা একটি বন্দুক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে। ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলার দায় হামাসের ওপর চাপালেও, হামাস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় “শক্তিশালী সামরিক অভিযান” চালানোর নির্দেশ দেন। তার দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “নিরাপত্তা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী গাজা উপত্যকায় শক্তিশালী হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা প্রমাণ করে যে, গাজা অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি এখন খুবই নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলের একের পর এক বিমান হামলা এবং মানবিক সহায়তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটে ফেলছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে সমর্থন জানালেও, ভেতরে ভেতরে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।




