যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump রাশিয়া-ইস্যুতে বড় ধরণের কূটনৈতিক টানাপোড়েনে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিকভাবে প্রকাশিত মার্কিন “জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল” নথিতে স্পষ্ট হয়েছে, এখানে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগের তীব্র দ্বিপাক্ষিক মনোভাব থেকে এক ধরনের ন flexibil shift এসেছে নথিতে পশ্চিমা/EU দেশগুলোর প্রতি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে আগের চেয়ে কম সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
8 Dec 2025 | Pic: Collected
নতুন কৌশলে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো যদি রাশিয়া-ইস্যুতে ভুল না শুধরে নেয়, তাহলে “সভ্যতাগত বিলুপ্তি” হতে পারে অর্থাৎ, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের পরিচয় হারাবে। এই ভাষ্য থেকেই বোঝা যায়, ট্রাম্প আর রাশিয়া-ইস্যুতে হার্ড-লাইন নীতি রাখছেন না; বরং এক প্রকার ব্যাকগ্রাউন্ড ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে রাখার চেষ্টা করছেন।
এ প্রসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিষয়ক রাষ্ট্রদূত Gordon Sondland বলেন, ট্রাম্প চান না যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া-ইস্যুতে “অগ্রভাগে” থাকুক; পরিবর্তে, মনে করছেন ইউরোপীয় দেশগুলোরই প্রধান ভূমিকা থাকা উচিত। অর্থাৎ, রুশ–ইউক্রেন সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র এক ধাপ পেছনে সরে আসতে চাইছে।
এমন পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, নতুন মার্কিন কৌশল তাদের দৃষ্টিভঙ্গার সঙ্গে বেশ কয়েক দিক থেকে সামঞ্জস্য রেখেছে।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ন্যাটো (NATO) জোটের অনেক দেশ এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছে। তারা বলছে, বর্তমান সময়ে ইউক্রেনকে রুশ আগ্রাসনের থেকে রক্ষায় পশ্চিমা ঐক্য এবং সক্রিয় নীতি জরুরি আর ট্রাম্পের নয়া স্ট্র্যাটেজি সেটাকে দুর্বল করতে পারে।
এই কূটনৈতিক পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোড়ন তোলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো “নরম” সমঝোতা তাদের জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে হলে ন্যায্য ও শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং রুশ পদক্ষেপের স্পষ্টতা প্রয়োজন যা ট্রাম্পের নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে নিশ্চিত নয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও ট্রাম্পের এই পরিবর্তনকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর সমর্থক ও বিরোধী উভয় দাবী করছে যারা মনে করছিলেন, তিনি ২০২৫ সালের নিরাপত্তা নীতি দিয়ে রাশিয়া-চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করবে, তারা হতাশ; অন্যদিকে, শান্তিপ্রেমী এবং কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে যারা ছিলেন, তারা এই নতুন নীতি-বদলকে সম্ভাবনাময় বলে দেখছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পেছন–হাটা হয়তো এক সাময়িক কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশের জন্য। কারণ, যুদ্ধ এখনো চলমান, রুশ আগ্রাসন রয়েছে, এবং এমন সময় যদি পশ্চিমা ঐক্য ভেঙে যায় তবে আগামী শীত ও বছরের শেষে মানবিক ও নিরাপত্তাগত সংকট ভয়াবহ মাত্রায় বাড়তে পারে।
বর্তমানে, রাশিয়া-ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অ্যাপ্রোচ এবং নীতি পরিবর্তনকে নজরদারি করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে; খুব শীঘ্রই বোঝা যাবে এই “হাত গুটিয়ে রাখা” যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপত্তা, কূটনীতি ও বিশ্ব রাজনীতিতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।



