U.S. Marshals Service-এর এক মার্কিন মার্শাল ও একটি মেক্সিকান undocumented অভিবাসী একসাথে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি “লক্ষ্যমাত্রিক বাধা–নিয়ন্ত্রণ ট্রাফিক স্টপ” চলাকালীন।অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন ৪৪ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক Carlitos Ricardo Parias, যিনি ইতিপূর্বে রিমোর হয়েছিলেন বলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
দুপুর নয়, প্রায় সকাল ৮ঃ৫২ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে স্টপ এলাকায়— যেখানে সংশ্লিষ্ট গাড়িকে “বক্সিং” করা হয়, অর্থাৎ আইন প্রয়োগকারী গাড়িগুলি suspect-র গাড়িকে চারদিক ঘিরে রাখে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় কার্লিটোস তার গাড়ি অন্য আইনজীবী গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন— কর্তৃপক্ষ বলছে ‘হিসাবে গাড়িটিকে অস্ত্ররূপে ব্যবহার করেছেন’।

22 Oct 2025 | Pic: Collected
এই পরিস্থিতিতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো “রক্ষামূলক শট” ছোঁড়েন— ফলশ্রুতিতে কার্লিটোসের গাঁটে একটি গুলিবিদ্ধ হয় এবং মার্কিন মার্শালের হাতে রিকোশে (প্রত্যাঘাত) গুলিবিদ্ধ হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয়েরই অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হলেও আহত হয়েছেন।
এই গুলিকাণ্ড শুধু একটি আইন প্রয়োগকারী ঘটনা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ পরিচিত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে উঠে এসেছে— কার্লিটোস নিজে একটি TikTok একাউন্টে “Richard LA” নামেই পরিচিত, সেখান থেকে তিনি নিয়মিত অভিবাসন ও আইন প্রয়োগ বিষয়ক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরতেন।
কিন্তু বিষয় শুধু ব্যক্তির নয়— বিষয় হলো গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ। Department of Homeland Security (DHS) এ ঘটনার পরে একটি বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কারণ “অবৈধ অভিবাসী আর আইন প্রয়োগকারীদের মাঝের উত্তেজনা বাড়ছে, এবং নীতি-ওয়ার্তা ও রাজনৈতিক ভাষণও এই পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখছে”। একদিকে অভিবাসী আইন-প্রয়োগ নীতির বিরোধিতা হচ্ছে, অন্যদিকে দৃশ্যমান হচ্ছে আইন প্রয়োগে হঠাৎ গতিতে রূপান্তর।
স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেই— ঘটনাস্থল ছিল প্রায় এক ব্লক দূরে Santee Education Complex–এর। স্কুল-ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে, কারণ সকালের সময় রাস্তার কাছেই গুলির শব্দ হচ্ছিলো।
এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: প্রথমত, কার্লিটোসের বিরুদ্ধে ফেডারেল ও অভিবাসন সংক্রান্ত একটি গ্রেপ্তার ওয়ারেন্ট ছিল, তিনি পূর্বেও রিমিদের সুযোগ পেয়েছেন বলে। দ্বিতীয়ত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, গাড়িকে ধাক্কা দেওয়া কার্যক্রম তাদের আইন প্রয়োগকারীদের জন্য “বিষয়হুমকিসৃষ্ট” এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
এই ঘটনায় বিশেষ করে আলোচনা হচ্ছে গভীরভাবে— আইন প্রয়োগ ও অভিবাসন নীতির মধ্যে ভারসাম্য কেমন হবে, এবং কখন একটি ট্রাফিক স্টপ বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রূপ নেয় তা নিয়ে। অভিবাসী-হক কর্মীরা বলছেন, অতিরিক্ত বল প্রয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। The Guardian+1 অন্যদিকে অধিকারবাদের অংশ বলছে, “যখন গাড়িকে সরাসরি রক্ষা নিন্মপ্রবণ যে পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্টকে হুমকি তা হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণহीन হতে পারে।”
বাংলাদেশী তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে— স্থানীয় ভাবে যেসব উদ্বাস্তু বা অভিবাসী অবস্থায় থাকে, তারা আইন-প্রয়োগ সংস্থার কার্যক্রমের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। আর আমেরিকার বড় শহরগুলোর মত লস অ্যাঞ্জেলেসেও সেটি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বলছে, “যে গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেটি আইনপ্রয়োগ মুলক শটের কারণ হতে পারে।”
এই ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য কতটা ইঙ্গিতপূর্ণ? বিশ্লেষকরা বলছেন— এটি হয়তো একটি ছোট দুর্ঘটনা নয়, বরং “বড় ধরণের সংকেত” যে আমেরিকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় জনবিচার বিবাদ এখন দ্রুত গাত্রাহত। সামাজিক মঞ্চে, রাজনৈতিক মঞ্চে এবং আইন প্রয়োগের মঞ্চে এই ঘটনা আলোড়ন তুলেছে। স্থানীয় কমিউনিটিতে এ ঘটনার পর প্রতিবাদ, সমাবেশ ও প্রশ্ন তুলেছে— “কেন এমনভাবে অভিযান চালানো হলো?”, “জনসাধারণের নিরাপত্তা কোথায় হয়?” এসব প্রশ্ন উঠেছে।
সংক্ষেপে বলা যায়, এখন শুধু গুলিবিদ্ধের সংখ্যা নয়— বিষয় হচ্ছে “কী কারণে”, “কিভাবে” এবং “এর পর কি হবে।” একটি ট্রাফিক স্টপ যেখানে হওয়ার কথা “সাধারণ তদন্ত”-এর জন্য, সে পরিণত হলো আইন প্রয়োগ-সংক্রান্ত উত্তেজনার সাপেক্ষে। এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হলো— অভিবাসন, জনসাধারণের নিরাপত্তা, আইন প্রয়োগ সংস্থার দায়িত্ব এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়া, সবই একসাথে জটিলভাবে যুক্ত।




