যুক্তরাষ্ট্রে চলমান সরকারি শাটডাউনের কারণে দেশজুড়ে বিমান চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকায় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করছেন বা অনেকে কাজ বন্ধ রেখেছেন, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিমান চলাচল ব্যবস্থায়। এর ফলে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন হাজারেরও বেশি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং আরও কয়েক হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও দুর্ভোগ। শাটডাউনের কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (FAA) ও পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (TSA) বহু কর্মী কাজে যোগ দিতে পারছেন না। যেসব কর্মী বাধ্য হয়ে কাজ করছেন, তারাও বেতন ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা যাচাই, ব্যাগ স্ক্যানিং ও বোর্ডিং প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে গেছে।
7 Nov 2025 | Pic: Collected
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (FAA) জানিয়েছে, সীমিত জনবল দিয়ে তারা ন্যূনতম সেবা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি যদি দ্রুত না বদলায়, তাহলে ফ্লাইটের নিরাপত্তা ও সময়সূচিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। প্রধান এয়ারলাইন কোম্পানিগুলো—আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা, ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্ট ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা বাধ্য হয়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে পারে, কারণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাটডাউনের এই প্রভাব শুধু বিমান চলাচলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত, হোটেল ব্যবসা ও কর্পোরেট ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। পর্যটন বিশ্লেষকদের হিসাবে, ইতিমধ্যে হোটেল বুকিং কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ, এবং বড় বড় শহরে ব্যবসায়িক ভ্রমণ বাতিল হচ্ছে ব্যাপকভাবে। ফলে অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রায় ৮ লাখ সরকারি কর্মচারী বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন বা বিনা বেতনে কাজ চালাচ্ছেন। হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেস এখনো নতুন বাজেট চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ শাটডাউন হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের বিষয়ে আগেভাগে জানানো হয়নি। অনেক যাত্রী ঘন্টার পর ঘন্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেও ফ্লাইট ধরতে পারেননি। বিমানবন্দরগুলোর লাউঞ্জ ও বোর্ডিং এলাকায় খাদ্য সরবরাহ, শৌচাগার ব্যবহার এবং লাগেজ সংরক্ষণেও ভোগান্তির শেষ নেই।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ, ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (FAA) এবং হোয়াইট হাউস একযোগে শাটডাউন সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিরোধী দলের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সমঝোতা না হলে এই সঙ্কট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই শাটডাউনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থনীতি পর্যবেক্ষক সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO)। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিমান পরিবহন, পর্যটন, খাদ্য সরবরাহ এবং হোটেল শিল্পে কর্মরত লাখো মানুষ বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন বলে সতর্ক করেছে বিশ্লেষকরা।



