যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চার জন প্রেসিডেন্টই “নোবেল শান্তি পুরস্কার” লাভ করেছেন — তারা হলেন থিওডর রুজভেল্ট, উড্রো উইলসন, জিমি কার্টার এবং বারাক ওবামা। প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন থিওডর রুজভেল্ট ১৯০৬ সালে, রাশিয়া–জাপান যুদ্ধের সমাধানে মধ্যস্থতার ভূমিকার জন্য। তিনি যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা কাজে লাগিয়েছিলেন। এরপর উড্রো উইলসন ১৯১৯ সালে এই পুরস্কার পান, মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তি প্রসার ও “লিগ অব নেশনস” গঠনে তার অবদানের জন্য। এছাড়া জিমি কার্টার ২০০২ সালে তার দীর্ঘকালীন শান্তিচিন্তা ও মানবাধিকার প্রচারণার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কৃত হন। সর্বশেষ, বারাক ওবামা ২০০৯ সালে প্রার্থী হন মাত্র কিছু মাসের প্রেসিডেন্ট হিসেবে — শান্তি, পারমাণবিক অবসরীীকরণ, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়।

11 Oct 2025 | Pic: Collected
উল্লেখ্য যে, অ্যাল গোর যিনি ট্রাম্প থেকে ভিন্নতর ভূমিকা পালন করেছিলেন, একেবারেই প্রেসিডেন্ট ছিলেন না — তিনি সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। ২০০৭ সালে গ্লোবাল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কাজের কারণে তিনি ও ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (IPCC) যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু তা “মার্কিন প্রেসিডেন্ট” হিসেবে নয় — তাই তালিকায় গণ্য হয় না।
২০২৫ সালের শান্তি-নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার পুরস্কারপ্রাপ্তির ঘোষণায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলেছে, “অন্ধকারের যুগেও গণতন্ত্রের শিখা জ্বালিয়ে রাখতে” তার অবদান বিশেষ মূলে বিবেচিত হয়েছে। মাচাদো এই পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন, এ খবরে বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পায়।
এদিকে, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে আসছেন।তবে ২০২৫ সালে তিনি পুরস্কার পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতা ও দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন — যেমন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আইনপ্রণেতা , এবং পাকিস্তান সরকার — কিন্তু নোবেল কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে তার প্রার্থিতা পোষা হয়নি।
এই চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট — রুজভেল্ট, উইলসন, কার্টার ও ওবামা — যারা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের অর্জন ও প্রেক্ষাপট অনেক ভিন্ন। কেউ সফল যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করতেন, কেউ ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগের জন্য, আবার কেউ সমাজ এবং মানবাধিকার কাজের জন্য। এই পুরস্কারপ্রাপ্তির ঘটনা শুধুই ব্যক্তির কীর্তিতেই সীমাবদ্ধ না — তা মার্কিন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি নীতিকে একটি বিশেষ প্রশ্নবিদ্ধ আলোকে তোলে।
আজও, ট্রাম্প বা অন্য যেকোনো রাষ্ট্রিক নেতৃত্বের নোবেল প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে রাজনৈতিক ও নৈতিক পারস্পরিক বিতর্ক। তবে ইতিহাস বলছে — মাত্র চারজন মার্কিন প্রেসিডেন্টই এই মর্যাদাপূর্ণ শান্তি পুরস্কার অর্জন করেছেন, এবং ভবিষ্যতে এই তালিকায় নতুন নাম যুক্ত হবে কিনা, সেটা সময় বলবে।




