সিরিয়ায় আইএসের হামলায় ৩ মার্কিন নাগরিক নিহত, ট্রাম্পের কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা

0
53

সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় ঐতিহাসিক শহর পালমিরা-এর কাছে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) একটি যৌথ মার্কিন-সিরিয়ান মিশনের উপর ইসলামিক স্টেট (আইএস) সন্দেহভাজন বন্দুকধারীর হামলায় কমপক্ষে তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছে যেখানে দুইজন মার্কিন সেনা ও একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী অন্তর্ভুক্ত, এবং আরও তিনজন মার্কিন সৈনিক আহত হয়েছেন বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানা গেছে; হামলায় পুরো ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং যা আইএস-এর বিরুদ্ধে সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধের একটি বিপজ্জনক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, ট্রাম্প বলেছেন “যারা আমেরিকানদের লক্ষ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা খুব বড় ক্ষতি করব” এবং এই ঘটনা কঠিন ফলাফলের মুখোমুখি হবে, তিনি নিহতদের “মাহান দেশপ্রেমিক” হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা জানিয়েছেন; এই হামলা সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর উপর সামরিক ও কৌশলগত সহিংসতার একটি নতুন রূপ, কারণ আইএস-এর ছত্রভঙ্গের পরও এই গোষ্ঠীর নির্বিঘ্ন উপস্থিতি ও বিচ্ছিন্ন হামলার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে হামলাকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তি সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ছিলেন এবং তিনি হামলার সময় নিহত হয়েছেন, সিরিয়ার ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রি জানিয়েছে যে তাকে আইডিয়োলজিক্যাল মূল্যায়নে রাখা হয়েছিল এবং পূর্বেও সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল যে সে চরমপন্থী ধারণা ধারণ করে, তবে সে নিজেই ওই হামলা চালিয়েছে; হামলার পর সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ পাঁচজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনাটি সম্পর্কে তদন্ত শুরু করেছে।

tbn24 20251214120557 473 angry trump
সিরিয়ায় আইএসের হামলায় ৩ মার্কিন নাগরিক নিহত, ট্রাম্পের কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা 2

15 Dec 2025 | Pic: Collected


এই আক্রমণের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে যে হামলা মাঝরাতে পালমিরা-এর কাছে ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা স্থানীয় নেতৃস্থানীয়দের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে ফেরার পথে লক্ষ্যবস্তু হয়, গুলির আওয়াজে দেশীয় পার্টনার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও মার্কিন সৈনিকরা আহত হন এবং হামলাকারীকে অপরাইও মারা যায়; এই মিশন ছিল আইএসবির বিরুদ্ধে অভিযান ও সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ কাজ এর অংশ, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হামলাটি সফলভাবে সংঘটিত হয় এবং এতে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে যায়।

ট্রাম্প তার “Truth Social” প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, “এটি আইএসের হামলা ছিল আমেরিকার বিরুদ্ধে”, এবং যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় ও মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে; তিনি সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন ও নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-কে উল্লেখ করে বলেছেন যে তারা এই ঘটনার জন্য “পরিষ্কারভাবে রীতিমতো ক্ষুব্ধ ও দুঃখিত”, এবং সিরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চলাকালীন সতর্কতার প্রয়োজন আরও বেড়ে গেছে। হামলার কারণ ও পেছনের গভীর প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আইএস-এর অস্তিত্ব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে না, বরং এছাড়া সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন শক্তি দ্বিতীয়যোগ্য কোনো জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত থাকতে পারে যা আগামী দিনেও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এই হামলাটি ঘটেছে এমন এক সময় যখন সিরিয়ায় রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি গত বছর সহজ ছিল না, সিরিয়ার নতুন প্রশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সামান্য হলেও উন্নয়নের দিকে এগোয়েছিল; আইএসের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর মাত্র কিছু সময়ের মধ্যে এই প্রাণলগ্ন হামলাটি সংঘটিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন যে আইএসের মতো চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি এখনও সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরই গভীরভাবে সক্রিয় থাকতে পারে এবং যার ফলে ভবিষ্যতে আরও জটিল ও প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।

সিরিয়া থেকে আগত হতাহতদের পরিবার, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতারা ইতোমধ্যেই শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে; যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর এবং হোয়াইট হাউস এই ঘটনার ঘন ঘন তদন্ত ও জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যাতে আইএস-এর বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং একই ধরনের হামলা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা যায়। এই ঘটনা শুধু সামরিক নয়, পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির একটি বড় ইঙ্গিত দেয়, যেখানে চরমপন্থী গ্রুপগুলির অব্যাহত টেনশন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here