সৌদি আরব যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (MBS) এক ঘোষণায় বলছেন, তাদের দেশ আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি থেকে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে। এই কথা তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে।

19 Nov 2025 | Pic: Collected
এমবিএস সাংবাদিকদের জানান, “আমরা আসল বিনিয়োগ করতে চাই … এবং আমরা বিশ্বাস করি আজ কিংবা আগামীকাল আমরা ঘোষণা করতে পারি যে এটি প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।” তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়, “বাস্তব বিনিয়োগ” গড়ে তোলা।
ট্রাম্পও এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি তাকে (MBS) বলব — আসুন এটি এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত নিয়ে যাই। আমরা তাদের সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক তৈরি করেছি।” এর আগেও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবং এখন সেই অঙ্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
এই বিনিয়োগ কেবল সাধারণ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয় — দু’দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুবরাজ সালমান বলেছেন, তাদের বিনিয়োগ চুক্তিতে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং চুম্বক-প্রযুক্তি (magnets) সহ বহু ক্ষেত্রে নতুন চুক্তি হতে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের বড় বিনিয়োগ সৌদির “ভিশন ২০৩০” পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে যায়, যার উদ্দেশ্য তেলে নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতি বৈচিত্র্য আনা। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি স্বাগত সংবাদ, কারণ বিদেশী বিনিয়োগ তাদের প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক ਇਸ সম্পর্কে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না এবং এটি শুধুমাত্র বড় সংখ্যার প্রলোভন হতে পারে। এছাড়া, এমন এক সময় যখন কিছু দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে, বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন — সৌদি কর্পোরেট ও গচর্ব সরকারের কীভাবে এই অঙ্ক আসল বিনিয়োগে রূপান্তর করবে।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী ফয়সাল আল-ইব্রাহিম আগে বলেছিলেন যে তাদের ৬০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা শুধুমাত্র সরকারের নয় — এতে বেসরকারি খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তার মতে, এটি শুধু নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব অর্থনৈতিক মডেল, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শিল্প এবং কাজ গড়ে তুলতে পারে।
এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি একটি গ্লোবাল অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এসেছে, যেখানে দেশগুলো নতুন অংশীদারিত্ব এবং কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ খুঁজে নিচ্ছে। সৌদির এই পদক্ষেপ যদি সফল হয়, তাহলে এটি ভবিষ্যতে কেবল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, রাজনৈতিক এবং কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকেও এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ধরা হবে।
সার্বিকভাবে, সৌদি যুবরাজের দৃষ্টিভঙ্গা স্পষ্ট — তারা যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু তেল-বাজার হিসেবে দেখছে না, বরং একটি বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে। তারা চায় তাদের অর্থ ও প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হোক, এবং তা যেন তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য এবং Vision 2030-এর অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এবং যুক্তরাষ্ট্রও, এই বিনিয়োগের মাধ্যমে, একটি শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় অংশীদারি গড়ার সুযোগ পায়, যা গ্লোবাল অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে পারে।




