যুক্তরাষ্ট্রের নানমতে প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং “Turning Point USA”-এর প্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ বক্তৃতা চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। খুনি হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন টাইলার রবিন্সন, যিনি অভিযোগ করেন যে তিনি কার্কের “হিংসার কথা” শুনে এই কাজটি করেছেন। তবে কার্কের মৃত্যুতে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় তার স্ত্রী এরিকা কার্ক জনসাধারণের সামনে হৃদয়স্পর্শী ভাষণ দিয়ে গ্রামের মানুষ ও সমর্থকদের চুপ থাকতে বলেননি, বরং তিনি বললেন—“আমি তাকে (হত্যাকারীকে) মাফ করি।”

23 September 2025 | Pic: Collected
এরিকা বলেন, “চার্লি সবসময় বলতেন যে হিংসার উত্তর হিংসা নয়, উত্তর হওয়া উচিত প্রেম ও দয়া।” তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় যা অনুভব করেছিলেন, তার কথা শেয়ার করে বললেন, “আমি দেখেছি তার হাসির ফোঁটা, দেখেছি তার শান্তি।” বক্তৃতায় তিনি বলেন, “যে যুবক চার্লি’র জীবন নিল, তার কথাও শুনেছি; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, চার্লি যদি יחדে থাকতেন, তিনি আমাকে বলতেন যে বলো ‘আমি তারাও একজন মানুষ’।”
তিনি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নন—তার ভাষায়, “এই যুবকের রক্ত আমার হাতে আসুক, এমনটা আমি চাই না।” এ কথাও বলেন, বিচার প্রক্রিয়া সরকার করবে, তবে তার নিজস্ব বিশ্বাস ও চার্লির শিক্ষা প্রেম ও ক্ষমার।
এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তাও বহন করছে। জনসমাগমে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ নীরবভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, অনেকে কাঁদছিলেন, কেউ কেউ উৎসাহ ও সমর্থন দিচ্ছিলেন এরিক্কাকে। স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্র নেতারা; তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বললেন, “আমি আমার প্রতিপক্ষদের ঘৃণা করি” — যা এরিকার মুহূর্তিক ক্ষমার নীরব বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
টাইলার রবিন্সন, ২২ বছর বয়সী, আগ্রগণ্য হত্যার অভিযোগে আসামি; তার বিরুদ্ধে ফায়ারিং অস্ত্র, জনসাধারণের বিপদ সৃষ্টি ও অন্যান্য অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া চলছে, এবং মৃত্যুদণ্ডের আবেদন সম্ভব কিনা সেটি নির্ধারিত হবে আদালতে। এরিকা তার বক্তব্যে বলেছিলেন যে সরকার যদি মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেয়, তিনি তা ব্যক্তি-ভাবে নারাজ হবে, তবে এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত।
স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয় State Farm Stadium, Glendale, Arizona-তে, যেখানে কয়েকটি বিশিষ্ট রাজনীতিক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ অনুষ্ঠানে এরিকা বলেছিলেন, “প্রেমই হবে আমাদের উত্তর, হিংসা নয়।”




