মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একটি বড় স্বেচ্ছা নির্বাসন (self‑deportation) কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার অধীনে যারা স্বেচ্ছায় ২০২৫ সালের শেষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন, তাদের প্রত্যেককে ৩০০০ মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সঙ্গে ফ্রি বিমান টিকিটও দেওয়া হবে — এমন তথ্য মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) আজ নিশ্চিত করেছে। যা আগের $1,000 সহায়তার প্রস্তাবকে তিনগুণ বৃদ্ধি করে $3,000‑এ উন্নীত করা হয়েছে এবং এতে যাত্রার খরচও সরকার বহন করবে বলে DHS‑এর একটি প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে করে দ্রুত নিষ্কাশন কার্যক্রম চালানো যায়।

23 Dec 2025 | Pic: Collected
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মসূচি “হলিডে স্টাইপেন্ড (holiday stipend)” নামে পরিচিত, যা সকল অসংরক্ষিত বা অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত নগদ সহায়তা এবং বিমানের টিকিটসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করবে যদি তারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশের বাইরে চলে যান। DHS সচিব ক্রিস্টি নোম এই কর্মসূচির প্রচারণায় বলেন যে এটি অভিবাসীদের জন্য “অভিনন্দনযোগ্য সুযোগ” এবং যে প্রত্যেকে এই সময়ের মধ্যে চলে যায়, তারা গ্রেফতার বা জেল খেটে deportation (জোরপূর্বক নির্বাসন) এড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আবার আইনসিদ্ধভাবে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, যেখানে বাধাদানগুলো কমানো হবে। তিনি আরো বলেন, “অবৈধ নাগরিকরা যদি সরকারী এই সুযোগ গ্রহণ করেন এবং নিজে চলে যান, তাহলে আমরাও তাদের আর জোর করে বের করতে চাই না; এটা তাদের জন্যই ভালো।”
এই নতুন প্রস্তাবটি CBP Home অ্যাপ‑এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে অভিবাসীরা তাদের স্বেচ্ছা নির্বাসনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা করতে পারবে। এই অ্যাপটি DHS‑এর অধীনে কাজ করে এবং আগের সরকারের সময় CBP One নামে পরিচিত ছিল; এখন এটি self‑deportation প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য পুনঃনামকরণ ও উন্নত করা হয়েছে। যারা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করবেন এবং নির্দিষ্ট ছাড়ের সময়ের মধ্যে চলে যাবেন, তারা এই নগদ সুবিধা ও বিমানের টিকিট পেতে পারবেন, এবং তাদের অনেক নাগরিক সুনামিত জরিমানা বা শাস্তি মলে করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই কর্মসূচিটি খরচ কমানো ও দ্রুত নির্বাসন প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে, কারণ DHS‑এর আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী একজন অবৈধ অভিবাসীকে জোরপূর্বক গ্রেফতার, আটক ও নির্বাসিত করা সরকারের জন্য গড়ে প্রায় $17,000 খরচ হয়ে থাকে, যা স্বেচ্ছা নির্বাসনের মাধ্যমে কম খরচে করা সম্ভব হবে বলে তারা দাবি করছে। অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করেন এই কর্মসূচি প্রশাসনিক ব্যয় কমায় এবং অভিবাসন প্রচেষ্টাকে দ্রুত করে তোলে, যদিও এটি এমন সময় আসে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই কর্মসূচি একটি সীমিত সময়ের প্রস্তাব হিসাবে বাস্তবায়িত হবে এবং যারা শেষ সময়ের মধ্যে সংখ্যায় নিবন্ধন করেন, তারা এই অর্থ সহায়তা ও বিমানের টিকিট অবিলম্বে পেতে পারবেন। এর পাশাপাশি DHS নিশ্চিত করেছে যে যারা এই সুযোগ গ্রহণ না করেন, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান বৃদ্ধি করা হবে এবং জোরপূর্বক নির্বাসন কর্মসূচি শুরু হবে। নোম বলেন, “যারা এই সুযোগ গ্রহণ করবে না, তাদের আমরা খুঁজে বের করব, গ্রেফতার করব এবং ভবিষ্যতে তারা ফিরে আসতে পারবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি ক্রিস্টমাস ও নতুন বছরকে সামনে রেখে প্রচারের মতো উপস্থাপন করছে, একদিকে স্বেচ্ছা নির্বাসনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে আইনগত কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কা সৃষ্টি করে অভিবাসীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে DHS জানিয়েছে যে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে প্রায় ১.৯ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার জন্য নিবন্ধন করেছে এবং CBP Home বা অনুরূপ কর্মসূচির আওতায় ফিরে গেছে, যা প্রশাসন ধারণা করে যে এখনও অনেকেই এই সুযোগ গ্রহণ করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে এই ধরনের প্রণোদনা প্রথম নয়; ২০২৫ সালের মে মাসে এই কর্মসূচির একটি সংস্করণ চালু হয়েছিল যেখানে স্বেচ্ছায় চলে গেলে $1,000 দেয়া হত এবং যাত্রার ব্যয়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়া হত, কিন্তু এবার তা তিনগুণ বাড়িয়ে $3,000 করা হয়েছে, যা অভিবাসীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিচালিত। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক এবং মানবিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যেখানে সমালোচকরা বলছেন এটি অভিবাসীদের ওপর আর্থিক প্রলুব্ধতা সৃষ্টি করছে এবং মানুষকে দেশে যাওয়ার জন্য এমন চাপ দেওয়া হচ্ছে যা মানবিক দিক থেকে বিতর্কিত হতে পারে।
এই কর্মসূচি সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে অভিবাসন নীতির মানবিকতা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে, কারণ এটি স্বেচ্ছায় ইতিবাচক পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে এবং আইনগত কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করে; আবার অনেকে মনে করেন এটি মানবাধিকার ও নীতি‑নৈতিকতার দিক থেকে প্রশ্নের সৃষ্টি করতে পারে।




