যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ ২৪ ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা ও বিতর্ক শেষে ‘বিগ, বিউটিফুল বিল’ নামক কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারের কর ছাড় ও ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে। এই বিলের মাধ্যমে দেশটির কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হবে এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হবে। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেস্কে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি দ্রুতই সই করে আইনে রূপ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

4 July 2025 | Pic: Collected
নিউ ইয়র্ক টাইমস, এনবিসি নিউজ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বিলটি হাউসে পাস হয়েছে খুবই ঘনিষ্ঠ ভোটে — ২১৮ জন আইনপ্রণেতা পক্ষে ভোট দেন, ২১৪ জন বিরোধী। এর মাধ্যমে প্রায় চার মাস ধরে চলা জটিল আইন প্রণয়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষ হলো। এই বিল ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার দল রিপাবলিকান পার্টির জন্য সবচেয়ে বড় কংগ্রেসিয়াল অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিল পাসে রিপাবলিকানদের মধ্যে ব্যাপক ঐক্য লক্ষ্য করা গেলেও, দল থেকে দুইজন কংগ্রেসম্যান — টমাস ম্যাসি ও ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক— বিলের বিরোধিতা করেছেন। বিলটি দ্রুত পাস করানোর জন্য ট্রাম্প ও তার দল দীর্ঘদিন ধরেই তৎপর ছিলেন এবং তাদের দাবি ছিল এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
বিলটির আয়তন প্রায় ৮৮৭ পৃষ্ঠা এবং এতে ২০১৭ সালের করছাড় প্রক্রিয়া আরো সম্প্রসারিত হয়েছে। এই বিলের মধ্যে রয়েছে বকশিস (টিপ) এবং অতিরিক্ত সময় কাজের ওপর সাময়িক করছাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। এর পাশাপাশি সামরিক খাতে শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিলটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেডিকএইডের অধীনে ব্যয় ৯৩০ বিলিয়ন ডলারে কাটছাঁট করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্প সরকার পূর্বে এই কর্মসূচি থেকে হাত না সরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তবুও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল আইনে রূপ নিলে আগামী দশ বছরে জাতীয় ঋণ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পাবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্প ও তার দলের যুক্তি, এই বিল দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
৪ জুলাই, মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের দিন বিলটিতে ট্রাম্পের অনুমোদনের মাধ্যমে এটি আনুষ্ঠানিক আইনে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইন প্রণয়নের পরবর্তী পর্যায়ে এর প্রয়োগ, বিভিন্ন কর ছাড় ও সরকারি ব্যয়ের বাস্তবায়ন মার্কিন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই বিল পাস হওয়া মার্কিন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে কর কাঠামো পরিবর্তন, সামরিক বাজেট বৃদ্ধি এবং সামাজিক সেবা খাতে পরিবর্তন অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প সরকারের জন্য এটি একটি বড় সাফল্য, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে মনে করা হচ্ছে




